নেপালে হিংসায় ৩ জনের মৃত্যু, জখম বহু; একাধিক জেলায় কারফিউ-সেনা

হিংসার জেরে বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পাথর ছোড়া এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একাধিক গাড়ি, দোকান এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন স্পর্শকাতর এলাকায় কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে।

Advertisement
নেপালে হিংসায় ৩ জনের মৃত্যু, জখম বহু; একাধিক জেলায় কারফিউ-সেনাজ্বলছে নেপাল
হাইলাইটস
  • পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল সেনাকে বড় সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে
  • স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে

ফের জ্বলছে নেপাল। সুনসারি জেলায় শুরু হওয়া হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে  দেশের একাধিক এলাকায়। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক শহরে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। টানা চার দিনের অশান্তিতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জখম  কয়েক ডজন মানুষ। এই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। 

এই সপ্তাহের শুরুতে সুনসারি জেলার দেবাঙ্গঞ্জ এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষের জেরে হিংসার সূত্রপাত হয়। পরে তা মধেশ প্রদেশের ধনুষা ও সিরাহা-সহ একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জখমদের মধ্যে সাধারণ মানুষ, বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও রয়েছেন। পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে বহু মানুষ জখম হয়েছেন।

হিংসার জেরে বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পাথর ছোড়া এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একাধিক গাড়ি, দোকান এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন স্পর্শকাতর এলাকায় কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে।

প্রথমে সুনসারিতেই হিংসা শুরু হলেও পরে তা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইনারুয়া, জনকপুর, সিরাহা, গোলবাজার এবং লাহান-সহ একাধিক শহরে কারফিউ জারি করা হয়। ধনুষা জেলার লক্ষ্মিনিয়া হাটবাজার, বেলাউনি রোড, নগরাইন পৌরসভা, দুধমতি সেতু এবং জনকপুরের কয়েকটি এলাকাতেও কারফিউ বলবৎ রয়েছে। সিরাহার গোলবাজার এলাকায়ও পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়ক সংলগ্ন অঞ্চলে একই ধরনের বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল সেনাকে বড় সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। অশান্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্তব্ধ। বাজার বন্ধ, গণপরিবহণ ব্যাহত এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ বছরের ওম প্রকাশ মেহতা এবং ২২ বছরের জয় প্রকাশ মেহতা। দেবাঙ্গঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভার কাপ্তানগঞ্জ নিউ হাটবাজার এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষের পর পুলিশের গুলিতে তাঁরা জখম হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয় প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়। নিহত দুই পরিবারের প্রত্যেককে ১০ লক্ষ নেপালি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। 

Advertisement

এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী বা গুরুতর আহতদের ২ লক্ষ নেপালি টাকা এবং মাঝারি বা সামান্য আহতদের ৫০ হাজার নেপালি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি, দোকান এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকদের জন্যও সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন জানানো হয়েছে সরকারের কাছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকেন। সেখানে সুনসারি এবং অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়া হিংসার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুংকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশা মেহতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দেবাঙ্গঞ্জ সফর করবেন। সেখানে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।

এদিকে হিংসা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে চাপ বাড়ছে। বিরোধী দল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সুনসারিতে হিংসা শুরু হওয়ার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নিলে তা অন্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ত না।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা 

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এদিন কার্যত বাধ্য হয়ে দেশের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি মৈথিলী ভাষায় সকলের কাছে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আবেদন জানান। 

প্রসঙ্গত নেপালে কিছুদিন আগেই নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক রাইড-শেয়ারিং চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গণ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।জেন-জিরা ফের আন্দোলনে নেমেছিলেন। পদত্যাগও দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর। 

আবার তার আগেই কাঠমান্ডুতে নদীর তীরবর্তী অবৈধ বস্তি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বালেন। তার ফলেও তাঁকে ঘিরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। বহু মানুষ পথে নেমেছিলেন। এই সব দেখে যুবসমাজের নয়নের মণি বালেন বর্তমানে যেন ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। বর্তমানে যে পরিস্থিতি নেপালেন, তাতে প্রশাসক বালেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। 

POST A COMMENT
Advertisement