
ইন্দোনেশিয়ায় জেগে উঠল আগ্নেয়গিরি। যার জেরে গোটা দেশের বিমান পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। রবিবার হঠাত্ মাউন্ট অ্যানাক ক্র্যাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুত্পাত শুরু হয়েছে।

রাজধানী জাকার্তার খুব কাছেই এই আগ্নেয়গিরিটা অবস্থিত। ফলে একটি বড় অংশ ঢেকে গিয়েছে আগ্নেয়াগিরি ছাইয়ে। ইন্দোনিয়ার ৮টি এয়ারপোর্ট ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন বিভিন্ন বিমানবন্দরে।

এখনও পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশই বিমান বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে জাকার্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। জাকার্তায় স্কুল সব বন্ধ করা হয়েছে। পড়ুয়াদের অনলাইনে ক্লাস চলছে।

জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝে সুন্দা প্রণালীর কাছে মাউন্ট অ্যানাক ক্র্যাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি অবস্থিত। পৃথিবীর যে কয়েকটি আগ্নেগিরি জীবন্ত, তার মধ্যে অন্যতম হল এই আগ্নেয়গিরি। এতটাই অগ্নুত্পাত চলছে যে, বিরাট এলাকা ঢেকে গিয়েছে ছাইয়ে। ১৯২৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর মাউন্ট ক্র্যাকাতাউ ভয়াবহ ভাবে জেগে উঠেছিল।

১৮৮৩ সালে ক্র্যাকাতাউ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর দ্বীপটির মোট আয়তনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম অংশ, ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে পারবোয়েওয়াতান ও দানান, এই দুই আগ্নেয়শৃঙ্গ সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মূল দ্বীপের অবশিষ্ট অংশ হিসেবে টিকে থাকে শুধু দক্ষিণাংশ, যার মধ্যে ছিল রাকাতা আগ্নেয়গিরি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া অংশটি পরে অগভীর সমুদ্রে পরিণত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানাচ্ছে, ৮টি বিমানবন্দর মিলিয়ে ১৫৫৮টি বিমান দেরিতে চলছে। যার ফলে বিপাকে পড়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার যাত্রী। রাজধানী জাকার্তা বিমানবন্দরেই ৯০০-র বেশি বিমান দেরিতে চলছে অথবা বাতিল করা হচ্ছে।

এছাড়া হুসেইন সস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর ও সুমাত্রায় রাদিন ইন্টেন II আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একাধিক বিমান বাতিল করা হয়েছে।

জাকার্তায় সব স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। পড়াশোনা চলছে অনলাইনে। বান্দার লামপুংয়েও আগ্নেয়গিরির ছাই পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেখানে পার্ক করে রাখা গাড়ি এবং রাস্তার ধারে ছাইয়ের আস্তরণ জমে যাচ্ছে।

আগ্নেয়গিরির ছাই বিমান চলাচলের জন্য খুবই বিপজ্জনক। ছাইয়ের সূক্ষ্ম কণা বিমানের ইঞ্জিনের ক্ষতি করে, দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিতে পারে এবং বিমানের গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট সিস্টেমে দূষণ ঘটাতে পারে। এমনকী কোনও বিমানবন্দর থেকে আগ্নেয়গিরির অবস্থান অনেক দূরে হলেও, ছাইয়ের মেঘ বিমান চলাচলের পথে ঢুকে পড়লে বিমান সংস্থাগুলিকে রুট পরিবর্তন করতে বা বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে।

অ্যানাক ক্র্যাকাতাউয়ে প্রথমে শনিবার রাতে অগ্নুত্পাত শুরু হয়। তারপর রবিবার একের পর এক বিস্ফোরণর শব্দ শোনা যাচ্ছে। কয়েকশো কিলোমিটার দূরেও। রবিবারই দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ মিলেছে। একটি বিরাট অংশের আকাশে কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে ঢেকে গিয়েছে।

আগ্নেয়গিরি আশপাশে ৩ কিলোমিটারে কোনও জাহাজ বা নৌকি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জীবন্ত আগ্নেগিরি ইন্দোনেশিয়ায়। প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অফ ফায়ারের উপর অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়া। একাধিক টেকটনিক প্লেট রয়েছে। মাঝেমাঝেই ভূমিকম্প ও অগ্নুত্পাত হতে থাকে।