অনন্ত মহারাজ নিয়ে কী বলছে রাজবংশীদের একাংশ?নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে কুকথা বলে বিপাকে নগেন্দ্র রায় তথা অনন্ত মহারাজ। ইতিমধ্যেই তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। সেই সঙ্গে প্রশাসনের নানা স্তর থেকে দেওয়া হয়েছে কড়া বার্তা। গ্রেফতারও করা হয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে। আর এই কাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে রাজবংশীদের একাধিক সংগঠন। পাশাপাশি তাঁদের দাবি, অনন্ত মহারাজের বক্তব্যের জন্য যেভাবে গোটা একটা সম্প্রদায়কে অ্যাটাক করা হচ্ছে, 'দেশ বিরোধী' বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিক সরকার।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই অনন্ত মহারাজ নেতাজি সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'শুধু মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এমন ধারণা একবারেই ঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের তুলে দেওয়া হয়েছিল নেতাজির হাতে। সেই সেনাদের নিয়েই গঠিত হয় আজাদ হিন্দ ফৌজ। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন...' এরপর তাঁর অনুগামীরাও নেতাজিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক আপত্তিকর পোস্ট করতে থাকেন।
আর অনন্ত মহারাজের এই কাজকে একবারেই ঠিক চোখে দেখছেন না রাজবংশীদের একাংশ। এই প্রসঙ্গে কোচ রাজবংশী ইয়ুথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বিজন রায় বলেন, 'নগেন রায় যে মন্তব্য করেছেন, সেটা ওনার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মন্তব্য। ওনার ব্যক্তিগত মন্তব্যের দায় সম্পূর্ণ রাজবংশী সমাজ নিতে পারবে না। নেতাজি দেশের নায়ক, দেশের সম্পদ। আমাদের সকলের হৃদয়ে নেতাজি রয়েছেন। আমাদের রাজবংশী সমাজের তরফে অনেক শ্রদ্ধা জানাই। আমরা চাই যারা যারা নেতাজিকে অবমাননা করছে, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিক সরকার।'
এই বিষয়ে একই মতামত জানালেন কোচ রাজবংশী যুবসমাজের সহ সভাপতি সৌমিত্র বর্মণ। তিনি বলেন, 'অনন্ত মহারাজ নেতাজি সম্পর্কে যা বলেছেন, সেটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নেতাজি কোনও এক জাতির নেতা বা কোনও এক রাজ্যের নেতা নন। নেতাজি গোটা ভারতবর্ষের নেতা। আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি, ভক্তি করি নেতাজিকে। তাই নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর কথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।'
কোচ রাজবংশী উন্নয়ন মঞ্চের প্রেসিডেন্ট পার্থ বর্মণও একই লাইনে কথা বলেন। তাঁর কথায়, 'নেতাজিকে নিয়ে যে বিতর্কটা চলছিল, সেটা অনন্ত মহারাজ বলছেন। এই বক্তব্যটা গোটা রাজবংশী সমাজের কখনওই নয়। কারণ, অনন্ত মহারাজের ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ বিভিন্ন রাজবংশী সমাজ থেকে উঠে এসেছে। আমাদের সংগঠন এবং রাজবংশী সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় সবাই কিন্তু এর প্রতিবাদ করছে।'
যদিও এই সংগঠনগুলির দাবি, নেতাজি ইস্যুকে সামনে রেখে পুরো রাজবংশী সমাজকে আক্রমণ করা হচ্ছে। কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় 'দেশ বিরোধী' বলা হচ্ছে। ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। যার ফলে উত্তরবঙ্গের একাধিক জাতি, জনজাতির সৌভাতৃত্বের সম্পর্ককে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই তারা চাইছেন, যারা রাজবংশীদের সম্পর্কে ঘৃণা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সরকার যেন নিজেই তাগিদ নিয়ে এই কাজটি করে।