চন্দ্রনাথ রথ হত্যা নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট জয় পেয়েছে বিজেপি। আর সেই ফলাফল ঘোষণার পরপরই ৬ মে খুন করা হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। আর আজ, ১৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী করা হল প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথকে। আর তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে সংকল্প সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখও শোনা গেল তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের মৃত্যুর প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, তৎকালীন বিরোধী দলনেতাকে (শুভেন্দু অধিকারী) সাহায্য করার জন্যই চন্দ্রকে খুন করা হয়েছে।
আজ নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সংকল্প সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'চন্দ্রকে যেভাবে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, আমি মনে করি, চন্দ্রের সবথেকে বড় অপরাধ ছিল, তিনি বিরোধী দলনেতাকে সহযোগিতা করতেন। তাই তাঁকে পৃথিবী থেকে অকালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।'
পাশাপাশি এদিন তিনি চন্দ্রনাথের খুনিদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দেন।
কী হয়েছিল?
বিধানসভা ভোটে বিরাট জয়ের মুখ দেখেছিল বিজেপি। এমনই পরিস্থিতিতে একদিন রাতে দলীয় কর্মসূচি সেরে বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। সেই সময়ই তাঁকে রাস্তার উপর গুলি করে খুন করা হয়।
পুলিশের অনুমান, দীর্ঘ সময় ধরে চন্দ্রনাথের গাড়িকে ফলো করে দুষ্কৃতীরা। তারপর সময় বুঝে গুলি করা হয় চন্দ্রনাথকে।
এই ঘটনার পর শুরু হয় তদন্ত। তারপর একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এমনকী এখনও এই ঘটনার তদন্ত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আবার চন্দ্রনাথের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি যে চন্দ্রকে ভোলেননি, এটা তাঁর কথাতেই পরিষ্কার।
আজ কী বলেন মুখ্যমন্ত্রী?
আজ নন্দীগ্রামবাসীকে তিনি বলেন, 'নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসেবে আমি যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, প্রত্যেকটা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করার দায়িত্ব আমার...আমি এই কমিন্টনমেন্ট নন্দীগ্রামের জনতাকে দিতে চাই। আমি নন্দীগ্রামের জেলখাটা, কেস খাওয়া নেতাকে এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই--যে প্রত্যেককে সরকারি ও দলগত ভাবে মর্যাদা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব আমার। আমি সেই দায়িত্ব পালন করছি ও করব। নন্দীগ্রামে সমস্ত বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলা থেকে সরানোর দায়িত্ব আমার। আর আমি সেই দায়িত্ব পালন করব।'
এছাড়া আজকের অনুষ্ঠান থেকে তিনি সংখ্যালঘুদেরও বার্তা দেন। তিনি বলেন, 'আমি জানি আপনারা আমাকে, বিজেপিকে ভোট দেন না। শুধু সংখ্যালঘুদের একটা আবেদন করতে চাই। আপনাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে। আপনারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন, কি থাকবেন না। যদি সরকারের সঙ্গে থাকতে চান, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চান, কাজ নিতে চান। তবে ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে আপনাদের পরীক্ষা। আপনারা পরীক্ষায় পাশ করবেন, নাকি ফেল করবেন...তা আপনাদের উপর। কিন্তু বাকিটা আমরা জিতছি, জিতব।'