লস্কর যোগ-পাকিস্তানি নম্বরে কথা, কর্ণাটকে পশ্চিমবঙ্গের যুবকের বিরুদ্ধে FIR

এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, মামাতাজুল 'ansari ikhwan' নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। পুলিশের অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে 'Kashmiritiger.313' নামে একটি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হত। সেই অ্যাকাউন্টের বিবরণে 'I love Pakistan, I love Kashmir' লেখা ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

Advertisement
লস্কর যোগ-পাকিস্তানি  নম্বরে কথা, কর্ণাটকে পশ্চিমবঙ্গের যুবকের বিরুদ্ধে FIRপ্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • তদন্তকারীদের অভিযোগ, মামাতাজুল 'Imam Mehndi' নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিল
  • ওই গ্রুপগুলি পরীক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানের কান্ট্রি কোড +৯২-সহ একাধিক ফোন নম্বর নজরে আসে বলে দাবি পুলিশের।

কর্ণাটকের কালাবুর্গিতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার (LeT) সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের এক যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। অভিযুক্ত যুবকের নাম মামাতাজুল মল্লিক। বয়স ১৮ বছর। পুলিশের অভিযোগ, যুবকের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কয়েকটি সন্দেহজনক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পাকিস্তানের কান্ট্রি কোড +৯২-সহ একাধিক নম্বর থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যপদের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালাবুর্গির ব্রহ্মপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১১৩(৩) এবং ১৯৭(১) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কালাবুর্গির চক থানার পুলিশ ইনস্পেক্টর সুশীল কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

কীভাবে পুলিশের নজরে এল যুবক?

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মামাতাজুল মল্লিক এবং মেহরাজ মল্লিক নামে দুই যুবক কালাবুর্গির সরফ বাজার এলাকায় একটি সোনার গয়নার দোকানে কাজ করত। গণেশ মন্দিরের কাছে পাদাশেট্টি কমপ্লেক্সের ওই দোকানে তাদের কার্যকলাপ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) বিষয়টি চক থানার পুলিশ ইনস্পেক্টরকে জানান।

১৭ অক্টোবর প্রথমে দু'জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরের দিন ফের তাদের হাজির হতে বলা হয়। সেই সময় দু'জনের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, মেহরাজ মল্লিকের ফোনে সন্দেহজনক কিছু না মেলায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মামাতাজুলের ফোনে কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যপদ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

কোন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ে সন্দেহ?

এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, মামাতাজুল 'ansari ikhwan' নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। পুলিশের অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে 'Kashmiritiger.313' নামে একটি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হত। সেই অ্যাকাউন্টের বিবরণে 'I love Pakistan, I love Kashmir' লেখা ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

এ ছাড়াও 'major_iqbal.\_isi' নামে একটি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি অভিযোগে ওই অ্যাকাউন্টটিকে লস্কর-ই-তইবার 'হেড কমান্ডার'-এর অ্যাকাউন্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান-সম্পর্কিত বিভিন্ন ভিডিও রিলসে লাইক দেওয়া এবং সেগুলি অনুসরণ করার অভিযোগও রয়েছে।

Advertisement


হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাকিস্তানি নম্বর!

তদন্তকারীদের অভিযোগ, মামাতাজুল 'Imam Mehndi' নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিল। এ ছাড়াও উর্দু ভাষার একটি গ্রুপে তার সদস্যপদের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে। ওই গ্রুপগুলি পরীক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানের কান্ট্রি কোড +৯২-সহ একাধিক ফোন নম্বর নজরে আসে বলে দাবি পুলিশের।

এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামাতাজুল জানিয়েছে, জাইনুল আবেদিন নামে এক ব্যক্তি তাকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করেছিল। পুলিশের অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার কমান্ডার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত, তদন্তে পুলিশ

পুলিশের দাবি, মোবাইল ফোনে পাওয়া কিছু ছবি ও ভিডিয়োও তদন্তের স্বার্থে সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগকারী পুলিশ ইনস্পেক্টর নিজের ফোনে ওই উপাদানগুলির কিছু ছবি তোলেন এবং তার প্রিন্টআউট অভিযোগের সঙ্গে জমা দেন বলে এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে। মামাতাজুলের মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের কোনও যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনশান্তি এবং আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (আইনশৃঙ্খলা), কালাবুর্গির অনুমতি পাওয়ার পর ১৯ অক্টোবর ভোরে এফআইআর দায়ের করা হয়। এখন অভিযুক্তের অনলাইন যোগাযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যপদ এবং মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তবে মামাতাজুল মল্লিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের ফল এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

POST A COMMENT
Advertisement