উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল নিয়ে কী আপডেট? রাতভর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ফরাক্কার কাছে ধসে বসে যাওয়া রেললাইন সারাইয়ের কাজ চলছে। শুক্রবার মধ্যরাতেও চলেছে মেরামতির কাজ। তবে এখনও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। ফলত শনিবারও বাতিল রয়েছে অধিকাংশ ট্রেন।
কোন কোন ট্রেন বাতিল শনিবার?
নাহারলাগুন–সাঁতরাগাছি স্পেশাল
গুয়াহাটি–হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস
বামনহাট–শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস
আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস
হলদিবাড়ি–শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল
বালুরঘাট–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস
নিউ আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস
জলপাইগুড়ি রোড–পদাতিক হামসফর এক্সপ্রেস
রাধিকাপুর–কলকাতা এক্সপ্রেস
যোগবাণী–কলকাতা এক্সপ্রেস
কাটিহার– হাওড়া এক্সপ্রেস
রাধিকাপুর–হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস
বালুরঘাট–কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস
নিউ আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ তিস্তা–তোর্সা এক্সপ্রেস
মালদা টাউন–হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস
কোন কোন ট্রেন ঘুরপথে যাবে?
নিউ ফরাক্কা থেকে আজিমগঞ্জ হয়ে কাটোয়া থেকে ব্যান্ডেলে আসবে শতাব্দী এক্সপ্রেস, সরাইঘাট এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর এক্সপ্রেস, হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস।
অন্যদিকে, নিউ ফরাক্কা থেকে আজিমগঞ্জ হয়ে নলহাটি পৌঁছবে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, তিনসুকিয়া এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলি।
কতদূর এগোল মেরামতির কাজ?
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ৯০ শতাংশ মেরামতি হয়ে গিয়েছে ধসে বসে যাওয়া রেললাইনের। শনিবার সকালে রেললাইন পুনরুদ্ধারের কাজ চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে গিয়েছে।
নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে এখন চলছে সিগন্যালিং ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং প্যাচওয়ার্কের কাজ। মেরামতির কাজে প্রায় ১৫০ শ্রমিককে কাজে নামানো হয়। আপ লাইনে ১০টি ওয়াগনে স্টোন ডাস্ট এনে ধসে যাওয়া অংশ ভরাট, মাটি পরীক্ষা এবং পাইলিং করা হয়। ডাউন লাইনেও পাওয়ার ব্লক নিয়ে কাজ হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে। তিনি বলেন, 'এটি রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটি নয়, প্রাকৃতিক কারণে ধস নেমেছে।' বর্ষা মিটলে জলাশয় সংলগ্ন রেলপথের মাটি নিয়ে IIT-র গবেষণার সাহায্যে AI নির্ভর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য খাবার
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্টেশনে স্টেশনে আটকে পড়া যাত্রীদের শুকনো খাবার ও জল বিলি করে প্রশাসন। শুভেন্দু অধিকারী সল্টলেকে জলসম্পদ ভবনে শুক্রবার বলেন, 'মুর্শিদাবাদ এবং মালদা জেলায় আটকে থাকা ট্রেনগুলির যাত্রীদের ফুড প্যাকেট এবং পানীয় জল দেওয়া হচ্ছে। মালদা এবং মুর্শিদাবাদের DM-কে আগেই বলে দিয়েছি যে, রাতের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সরকারি ব্যবস্থা না থাকে, তা হলে হোটেল-লজ ভাড়া করে তাঁদের রাখা হবে। ওই যাত্রীদের কোনও অর্থ খরচ করতে হবে না।'
ফরাক্কার BDO সুজয় ব্যাপারী নিজে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের জন্য পানীয় জল, পাউরুটি, বিস্কুট ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেন। যাত্রীদের বাসে করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পরিদর্শনে যান উত্তর মালদার BJP সাংসদ খগেন মুর্মুও। তিনি বলেন, 'অতিবৃষ্টির ফলে আপ রেললাইনটি পুরোপুরি বসে গিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।'