কুণাল ঘোষ-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে দলের হয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বারংবার জানিয়ে দেন, দল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যই তিনি তুলে ধরছেন। নিজের মতামত পোষণ করছেন না। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে দলের হয়ে কুণাল জানিয়ে দেন, অভিষেক ও আরও কিছু নেতার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে সম্পত্তির যে খতিয়ান ছড়ানো হচ্ছে, এগুলি ভিত্তিহীন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বেআইনি অংশগুলি ভেঙে ফেলতে হবে। বিল্ডিংয়ের প্ল্যান নিয়ে পুরসভায় হাজির হতে হবে নয়তো ভাঙা হতে পারে বাড়ির বেআইনি অংশগুলি। এই সংক্রান্ত একটি নোটিশ ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একইসঙ্গে অভিষেকের বাড়ি ও লিপস অ্যান্ড বাউন্স মিলিয়ে মোট যতগুলি সম্পত্তি আছে তাও ভাইরাল।
দলের বক্তব্য জানিয়ে কুণাল বলেন, "যদি ঠিকানা ধরে মিলিয়ে দেখেন তাহলে সত্য উঠে আসবে।"
তৃণমূলের মুখপাত্র বলেন, "বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে দল ও দলের কিছু নেতা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও আরও কিছু নেতাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এই ধরনের প্রচার চলছে। দল এটাকে ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তিনি এই ধরনের অপপ্রচারে মাথা নত করবেন না।"
কুণালের আরও দাবি, "কার কাছে কী নোটিস গেছে আমাদের কারও কিছু জানার কথা নয়। কার বাড়িতে কী নোটিস যাচ্ছে সেই বিভাগের কাজ, তা দলের পক্ষেও জানা সম্ভব নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির একটি তালিকা ঘুরছে। ফলে পুরোদস্তুর তদন্ত হোক। যারা ভিত্তিহীন জিনিস কারা রটাচ্ছে তা নিয়ে তদন্ত হোক। তা আসল হলে আইন আইনের পথে চলবে। পুরসভার তরফে একটি ভুয়ো নোটিস ঘুরছে। বিজেপি অভিষেক ও অন্যান্য নেতাদের নাম জড়িয়ে সম্পত্তির তালিকার ভুয়ো প্রচার চালাচ্ছে। এই নোটিস একেবারে মিথ্যে।"
জোর দিয়ে বলেন, "বাড়ি কার, নোটিশ গেছে কিনা এখনও অবদি বলা সম্ভব না। যাদের নামে অভিযোগ তারাই বলতে পারবে। বাড়ির বিষয়টায় যার নাম রয়েছে তার যা সিদ্ধান্ত আমি জানিয়েছি।"
প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির একাধিক ঠিকানা হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড, প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, পণ্ডিতিয়া রোড এবং ওস্তাদ আমির খান সরণি, অভিষেকের মা-বাবা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে কলকাতা পুরসভা ১৭টা নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে। অথবা কেন করা হল, নিয়মের অন্যথা হল কেন, জানাতে হবে। বাড়ির মধ্যে লিফট, এসক্যালেটর বসাতে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, জানাতে হবে তাও। এই অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়।