তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যায় নিয়মে বদল? কৌশিকী অমাবস্যার সময়ে তারাপীঠ মন্দিরের আশপাশে সমস্ত মদের দোকান বন্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে শোরগোল। কারা দিল এই প্রস্তাব? প্রশাসন কি প্রস্তাবে রাজি? সেক্ষেত্রে মায়ের পুজোয় কারণবারি দেওয়ার রীতিও বদল হবে? সবটা জানাচ্ছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।
মদের বন্ধের প্রস্তাব দিল কারা?
কৌশিকী অমাবস্যার আগের দিন, অমাবস্যার দিন এবং পরের দিন তারাপীঠ এলাকার সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পরিষদের তরফে। একটি বৈঠক করে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন তারা। এই পরিষদের চেয়ারম্যান অতিরিক্ত জেলাশাসকও। তাই প্রস্তাব রাখা হয়েছে তাঁর কাছেই
কী কারণে মদ বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব?
কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠ মন্দিরে নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারাপীঠের পুরোহিত সজল কুমার ভট্টাচার্য, মিলন পাণ্ডা বলেন, 'কৌশিকী অমাবস্যার সময়ে তারাপীঠে একদল মানুষ আসেন পুজো দেওয়ার জন্য আর একদল আসেন ফূর্তি করার জন্য। তাদের জন্যই প্রচুর টাকার মদ বিক্রি নয়। কিন্তু এর জেরে যাতে পুজোর সময়ে কোনও বিশৃঙ্খলা না হ, সে কারণেই আমরা মদের দোকান বন্ধ রাখার কথা বলেছি।'
কোটি কোটির টাকার মদ বিক্রি
কৌশিকী অমাবস্যায় প্রতি বছরই তারাপীঠে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয় তারাপীঠে। মদ বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় সে সময়ে। আবগারি দফতরের হিসেব বলছে, কৌশিকী অমাবস্যায় গত বছর ৩ দিনে সাড়ে ৪ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল সেখানে। ফলত রাজস্বের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন আদৌ মদ বন্ধের প্রস্তাবে সায় দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার। যদিও এই শক্তিপীঠের ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে ও উৎসবের দিনগুলিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মদ বিক্রি বন্ধ রাখার পক্ষে জোরাল সওয়াল করেছে উন্নয়ন পর্ষদ এবং মন্দির কমিটি।
বদলাবে পুজোর রীতি?
কৌশিকী অমাবস্যায় বরাবরই পুজোয় কারণবারি নিবেদন করার রীতি রয়েছে। সেক্ষেত্রে কি মদের দোকান বন্ধ থাকার কারণে এই রীতিরও বদল হবে? সজল কুমার ভট্টাচার্য, মিলন পাণ্ডা বলেন, 'মায়ের পুজোর কোনও রীতি বদল হবে না। যেভাবে কারণবারি নিবেদন করা হয়, সেই উপাচারই হবে। দোকান বন্ধ থাকলেও আমরা আগে থেকে মায়ের পুজোর জন্য মদ তুলে রেখে দেব।'
উল্লেখ্য, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা। সে সময়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং মন্দির চত্বরের ধর্মীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। মদের দোকান বন্ধ থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে যেমন মনে করছেন অনেকে, তেমনই রাজস্বের বিরাট ঘাটতিও ভাবাচ্ছে। তবে প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এই প্রস্তাব কার্যকর করার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারাপীঠের ধর্মীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী যাতে সুষ্ঠু ভাবে পুজো দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতেই এই প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে মন্দির কমিটি।