কামদুনি থেকে বরুণ বিশ্বাস, দু'টি কেসেরই ফাইল খোলার ইঙ্গিত, তোড়জোড় শুরু

নির্যাতিতার ভাইয়ের অভিযোগ, সিআইডির তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, 'আমি আমার বোনের দেহ দেখতে গিয়েছিলাম। শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পা দু'টি প্রায় ছিঁড়ে গিয়েছিল এবং নাভি পর্যন্ত শরীর চিরে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিআইডির রিপোর্টে এসবের উল্লেখই ছিল না।' তিনি আরও দাবি করেন, তদন্তকারীদের তোলা ছবিতে যেসব তথ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, তার অনেকটাই চার্জশিটে স্থান পায়নি।

Advertisement
কামদুনি থেকে বরুণ বিশ্বাস, দু'টি কেসেরই ফাইল খোলার ইঙ্গিত, তোড়জোড় শুরুবরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলা।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • উত্তর ২৪ পরগনার বহুল আলোচিত কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করার দাবি জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
  • তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের আমলে এই মামলার তদন্তে একাধিক ত্রুটি ছিল। ফলে ভুক্তভোগীর পরিবার প্রকৃত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনার বহুল আলোচিত কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করার দাবি জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের আমলে এই মামলার তদন্তে একাধিক ত্রুটি ছিল। ফলে ভুক্তভোগীর পরিবার প্রকৃত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, কামদুনি মামলার ফাইলটি পুনরায় খোলা হোক। আগের সরকার যেভাবে তদন্ত পরিচালনা করেছিল, তাতে সত্য সামনে আসেনি। তাই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।'

২০১৩ সালের সেই নৃশংস ঘটনা
২০১৩ সালের ৭ জুন, বারাসতের কাছে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনি গ্রামে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ২১ বছর বয়সি এক কলেজছাত্রী। দুপুরে বাস থেকে নামার পর নির্জন পথে তাঁকে অপহরণ করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্তে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সামনে আসে। পরে মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডি ১৪৭ পাতার চার্জশিট জমা দিলেও, তদন্তের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টও তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি শুরু করে।

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ
একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে নির্যাতিতার ভাইয়ের অভিযোগ, সিআইডির তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, 'আমি আমার বোনের দেহ দেখতে গিয়েছিলাম। শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পা দু'টি প্রায় ছিঁড়ে গিয়েছিল এবং নাভি পর্যন্ত শরীর চিরে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিআইডির রিপোর্টে এসবের উল্লেখই ছিল না।' তিনি আরও দাবি করেন, তদন্তকারীদের তোলা ছবিতে যেসব তথ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, তার অনেকটাই চার্জশিটে স্থান পায়নি।

মামলার বর্তমান অবস্থান
বিচার চলাকালীন অভিযুক্তদের একজন, গোপাল নস্কর, জেলে মারা যান। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নিম্ন আদালত রফিকুল ইসলাম গাজি ও নুর আলিকে খালাস করে দেয়। একইসঙ্গে শেখ ইমানুল ইসলাম, আমিনুর ইসলাম ও ভোলা নস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাইফুল আলি, আনসার আলি ও আমিন আলিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

Advertisement

পরবর্তীতে ৬ জনই কলকাতা হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০২৩ সালে হাইকোর্ট সাইফুল আলি ও আনসার আলির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করে। আমিন আলিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিন অভিযুক্তকে মুক্তির নির্দেশ দেয় আদালত। আদালত উল্লেখ করে, ২০১৩ সালে গ্রেফতারের পর তাঁরা ইতিমধ্যেই ১০ বছর কারাবন্দি ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলা
নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। বর্তমানে সেখানে মামলার শুনানি চলছে।

বারুইপুরের সাম্প্রতিক ধর্ষণ-হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে ভুক্তভোগীর ভাই বলেন, তাঁদের পরিবার এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। যদিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে 'এনকাউন্টার'-এর পক্ষে যে মত তিনি প্রকাশ করেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত; এটি আদালত বা সরকারের কোনও সরকারি অবস্থান নয়।

কী বললেন বরুণ বিশ্বাসের দিদি?
কামদুনি মামলার তদন্ত পুনরায় শুরুর দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন সমাজকর্মী বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা বিশ্বাস।
তিনি বলেন, 'কামদুনির ঘটনাকে শুধু নৃশংস বললে কম বলা হবে। আজও ওই ঘটনার প্রকৃত বিচার হয়নি। তৃণমূল সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পায়নি বলেই আমাদের বিশ্বাস। তাই আমরা চাই, এই মামলার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নতুন করে হোক।'

তিনি আরও বলেন, 'মেয়েটিকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয়, তারপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ভুক্তভোগীর পরিবার বিচার পায়নি।'

ভাই বরুণ বিশ্বাসের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রমীলা বিশ্বাসের অভিযোগ, 'ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছি। সিআইডির কাছেও সমস্ত নথি জমা দিয়েছি। আমরা বরুণের হত্যার বিচার চাই। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক খুন করিয়েছিল। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁরা এখন সবাই জামিনে মুক্ত।'

 

POST A COMMENT
Advertisement