সুদীপ্ত রায় ও নির্মল মাজির বিরুদ্ধে FIR (ছবি: ফেসবুক)রাজ্যে একের পর এক ভুয়ো ডাক্তারের হদিশ মিলছে। এই ঘটনায় ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি, সম্পাদক, রেজিস্ট্রার সহ অন্যান্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের করেছেন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের (এপিএইচএন) সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে। এই অভিযোগপত্রে, কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায়, সম্পাদক সুশান্ত রায়, সদস্য তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি, রেজিস্ট্রার মানস চক্রবর্তী-সহ অন্য আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে। এই অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডা: অর্চিষ্মান বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা: রজত বাসু সহ অন্যান্যরা।
এই বিষয়ে ডা: রজত বাসু বলেন, 'মানুষের বাঁচা-মরার ব্যাপারটা যাদের হাতে থাকে, সেই ডাক্তারদের এরকম ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। তাই মেডিক্যাল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তো অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা উচিত।'
অভিযোগকারী চিকিৎসকদের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে প্রচুর ভুয়ো ডাক্তার খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তাই এই ১৫ বছর কাউন্সিলের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, সেই কাউন্সিলের দুই সভাপতি ডা: সুদীপ্ত রায় এবং ডা: নির্মল মাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া রেজিস্ট্রার মানস চক্রবর্তী-সহ অন্য আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে।
রজতের কথায়, 'কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্য যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কথা সরাসরি বলা হয়নি। কিন্তু তাঁরা অভিযোগের তালিকায় আছেন। কারণ, একজন প্রেসিডেন্ট একা সব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাই অন্যান্য সদস্যদেক ভূমিকাও দেখতে হবে।'
অভিযোগকারী চিকিৎসকেরা জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এখন একটু ব্যক্তিগত কাজে বাইরে রয়েছে। কিন্তু তিনি এই পদক্ষেপের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। উনিও চাইছেন যে এই ব্যাপারটা যারাই জড়িত আছে, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে।
ইতিমধ্যেই এফআইআর নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। অভিযুক্তদের দ্রুত ডাকা হবে বলে জানালেন রজত।
এছাড়া অভিযোগকারী চিকিৎসকদের দাবি, যদি মনে হয় তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে, সেক্ষেত্রে পরবর্তীকালে সিআইডি বা আরও বড় এজেন্সির সাহায্য চাওয়া হতে পারে।