ইউনিভার্সিটি বিলবিধানসভায় আজ পেশ হচ্ছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। এই বিলের মাধ্যমেই কার্যকর হচ্ছে এক রাজ্য়, এক শিক্ষাব্যবস্থা নীতি। আর এই বিল নিয়ে বলতে উঠেই 'ভারত বিরোধীদের' আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অধ্যাপকদের 'পানিশমেন্ট ট্রান্সফার' নিয়েও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঋষি অরবিন্দের যাদবপুরকে সেন্টার ফর এক্সিলেন্স করা হবে। সেখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে বললে তাদেরই টুকরো করে দেওয়া হবে।
এখানেই শেষ না করে তিনি আরও বলেন, 'দেওয়ালে লিখবেন ফ্রি প্যালেস্টাইন। রেড স্যালুট কিষেনজি। ১০০০ জন নিরীহ মানুষকে মেরেছে।' মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সব করলেই কড়া মাপের ওষুধ দিতে হবে।
পাশাপাশি তিনি বলেন, 'উপাচার্য গোপাল সেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কমিশন বসান হবে। আমি নিয়ে এসেছি সব। আগের ঘটনা বের করব। কবে কী করেছিলেন আপনারা। সব ইতিহাস আছে।'
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বিলটাকে প্রয়োগ করা হবে নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তথাকথিত বুদ্ধিমান অধ্যাপকদের পাঠানোর জন্য। শুভেন্দু বলেন, 'আপনাদের এত জ্ঞান, এত বুদ্ধি, কমরেড লেলিন, মার্ক্স, সমাজবাদ নিয়ে কথা বলেন। তাঁদেরকে আমরা নব গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেব।' তিনি এটাও জানান যে শুধু অধ্যাপক নয়, কর্মচারীদেরও বদলি করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কর্নাটক, কেরল, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশে শিক্ষক বদলির অনুমতি রয়েছে। গুজরাত ও বিহারে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার আগেই বাংলায় এই নিয়ম চালু করা হল।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, 'মিছিল করুন পুলিশের পারমিশন নিয়ে। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি বললে যেই ভাষাতে কথা বলা উচিত, সেই ভাষায় কথা বলব। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ভাষায় কথা বলা হবে। পহেলগাঁও নিয়ে মিছিল নেই। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে মিছিল হয়।'
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভারত বিরোধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণাও করেন। তবে এই সময়ই তিনি জানিয়ে দেন যে, এই নতুন বিল চালু হলেও পিএইচডি পড়ুয়াদের কোনও সমস্যা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, 'সিপিআইএম অনিলায়ন করেছিল। তৃণমূল মমতায়ন করেছিল। আমরা গেরুয়াকরণ করব না।'
মাথায় রাখতে হবে, এই বিল পাশের পর উচ্চশিক্ষা দফতরের আওতায় আনা হবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কেও। এতদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে ছিল। গত ২০০৭ সালে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন। ২০০৮ সালের ৫ এপ্রিল থেকে তা কার্যকরও হয়।