দুর্গাপুজো ২০২৫নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩ এর শুরুতেই বাঙালির মনে সবচেয়ে বড় কৌতূহল, কবে, কতদিন ধরে হবে দুর্গাপুজো? আর এবারের খবর সত্যিই বিশেষ, এ বছর দুর্গাপুজো চলবে টানা ছ’দিন।
বাংলার ঘরে ঘরে পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন পঞ্জিকা দেখা। মূলত দুই ধরনের পঞ্জিকা, সূর্যসিদ্ধান্ত প্রাচীন পঞ্জিকা এবং দৃকসিদ্ধ বা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা, অনুসারেই ঠিক হয় তিথি ও পুজোর নির্ঘণ্ট। সেই হিসেবেই জানা যাচ্ছে, ১৪৩৩ সালের শরৎকালীন দুর্গাপুজো শুরু হবে ১৬ অক্টোবর (২৮ আশ্বিন, শুক্রবার) এবং শেষ হবে ২১ অক্টোবর (৪ কার্তিক, বুধবার) দশমীর মাধ্যমে।
সাধারণত ষষ্ঠী থেকে দশমী, এই পাঁচ দিনেই দুর্গাপুজো সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এবছর তিথির বিশেষ অবস্থানের কারণে সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। একই তিথি দুই দিনে পড়ায় পুজোর পর্ব একদিন বাড়ছে। ফলে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত দিন যুক্ত হয়ে পুজো হয়ে উঠছে ছয় দিনের উৎসব।
প্রাচীন পঞ্জিকা অনুযায়ী, সপ্তমী তিথি দু’দিন ধরে বিস্তৃত। অন্যদিকে, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে ষষ্ঠীও দুই দিনে পড়ছে। এই তিথিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই মূলত পুজোর মেয়াদ বেড়েছে।
এদিকে মহাষ্টমীর পুজোর সময় কিছুটা সংক্ষিপ্ত। প্রাচীন পঞ্জিকা অনুযায়ী, সূর্যোদয়ের পর অষ্টমীর জন্য বরাদ্দ সময় খুবই কম, সকাল ৭টা ২৬ মিনিট থেকে সন্ধি পুজো চলবে প্রায় ৮টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে সময় কিছুটা ভিন্ন হলেও, সামগ্রিকভাবে অষ্টমীর পূজার সময় তুলনামূলক কমই থাকছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বল্প সময়ের কারণে প্রচলিত ভোগের আয়োজন কিছুটা সীমিত হতে পারে। তবে পায়েস বা পরমান্ন নিবেদন করলেও শাস্ত্র মতে কোনো ত্রুটি হবে না।
সব মিলিয়ে, তিথির এই অনন্য সংযোগে এবারের দুর্গাপুজো একটু ভিন্ন স্বাদের। নিয়মের কিছু জটিলতা থাকলেও ভক্তদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ, মা দুর্গা একদিন বেশি সময় ধরে থাকবেন। আর সেটাই তো বাঙালির কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।