Samik Bhattacharya: 'রাজ্যে ঝারাই-মোছাই করার কাজ চলছে', কারখানা উদ্বোধনে এসে প্রাক্তন সরকারকে কটাক্ষ শমীকের

পুজোর আগেই নতুন কারখানার উদ্বোধন! তাহলে কি এবার বাংলার মাটিতে সত্যিই ফিরছে শিল্পের জোয়ার? নতুন কারখানা মানেই কি নতুন কর্মসংস্থান, নতুন আয় আর বদলে যাওয়া বাংলার ছবি? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। তবে ডোমজুড়ের এই নতুন কারখানার উদ্বোধন ঘিরে শিল্পায়ন নিয়ে ফের আশার কথা শোনা গেল।

Advertisement
'রাজ্যে ঝারাই-মোছাই করার কাজ চলছে', কারখানা উদ্বোধনে এসে প্রাক্তন সরকারকে কটাক্ষ শমীকেরশমীক ভট্টাচার্য
হাইলাইটস
  • শনিবার হাওড়ার ডোমজুড়ে একটি কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য।

পুজোর আগেই নতুন কারখানার উদ্বোধন! তাহলে কি এবার বাংলার মাটিতে সত্যিই ফিরছে শিল্পের জোয়ার? নতুন কারখানা মানেই কি নতুন কর্মসংস্থান, নতুন আয় আর বদলে যাওয়া বাংলার ছবি? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। তবে ডোমজুড়ের এই নতুন কারখানার উদ্বোধন ঘিরে শিল্পায়ন নিয়ে ফের আশার কথা শোনা গেল। দাবি উঠল, দীর্ঘদিনের শিল্প খরার পর এবার বিনিয়োগ বাড়ছে আর তার হাত ধরেই বাড়তে পারে কর্মসংস্থান। আর সেই বার্তার সঙ্গেই রাজ্যের রাজনীতি নিয়ে বিজেপির কটাক্ষ—সব মিলিয়ে একই দিনে শিল্প ও রাজনীতি, দুই ছবিই ধরা পড়ল বাংলায়।

শনিবার হাওড়ার ডোমজুড়ে একটি কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য। শিল্পের প্রসঙ্গ তুলেই তিনি দাবি করেন, এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর বক্তব্য, ৪৯ বছরের শিল্পায়নের খরা কাটিয়ে বাংলায় বিনিয়োগ আসছে। নতুন শিল্প এলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। শুধু আজকের উদ্বোধন নয়, আগামী দিনে বাংলার শিল্পের চেহারাই বদলে যাবে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, সেই পরিবর্তন দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরও এক বছর।

কারখানার উদ্বোধনের মঞ্চ থেকেই অবশ্য উঠে আসে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে মমতা ব্যানার্জী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন—এই সফর নিয়ে কটাক্ষ করেন শমীক ভট্টাচার্য্য। তাঁর বক্তব্য, মমতা ব্যানার্জী যা করার করুন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এতদিন রাজ্যে যা হয়ে গিয়েছে, এখন তার ‘ঝারাই-মোছাই’ করার কাজ চলছে। অর্থাৎ একদিকে নতুন কারখানার উদ্বোধন, অন্যদিকে রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে বড় দাবি—ডোমজুড়ের মঞ্চ থেকে বিজেপির বার্তায় শিল্পই হয়ে উঠল অন্যতম প্রধান প্রসঙ্গ। শমীক ভট্টাচার্য্যের বক্তব্য, এই কারখানার মতো আরও বিনিয়োগ বাংলায় আসবে এবং তার প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে। ফলে পুজোর আগে নতুন কারখানার দরজা খোলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে শিল্পের সম্ভাবনার কথাই সামনে আনল বিজেপি।

Advertisement

এরপরই উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গ। শমীক ভট্টাচার্য্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেন। তাঁর বক্তব্যে শিল্প ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয় কেন্দ্রের নেতৃত্বের কথাও। তবে অনুষ্ঠান শেষ হয়নি শুধু শিল্পের কথা বলেই। খড়্গপুরে বিজেপি কর্মী খুনের প্রসঙ্গও ওঠে। সেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে শমীক ভট্টাচার্য্য বলেন, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। ফলে ডোমজুড়ের এই অনুষ্ঠান থেকে একদিকে যেমন বাংলায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ার দাবি সামনে এল, তেমনই উঠে এল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির বক্তব্য।

এখন প্রশ্ন একটাই—ডোমজুড়ের এই নতুন কারখানা কি বাংলায় শিল্পের নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত? বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং আগামী এক বছরে শিল্পের চেহারা বদলে যাবে—এই প্রত্যাশাই শোনালেন শমীক ভট্টাচার্য্য। সেই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, উত্তর দেবে আগামী দিন।

 

রিপোর্টার- বৈদ্যনাথ ঝা

POST A COMMENT
Advertisement