দুপুরে প্রকাশিত বিশেষ বুলেটিনে এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে কলকাতার আবহাওয়া দফতর।South Bengal Weather Update: এপ্রিলের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গে তীব্র গরম। সঙ্গে বাড়ছে আর্দ্রতা। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে প্রকাশিত বিশেষ বুলেটিনে এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে কলকাতার আবহাওয়া দফতর। আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় 'হট অ্যান্ড হিউমিড' পরিস্থিতি থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নস্তরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকের শুষ্ক হাওয়া এবং ঋতুগত সূর্যতাপের জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখা এবং উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের উপর ঘূর্ণাবর্তও সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। তারপরের চার দিন তাপমাত্রায় তেমন বড় পরিবর্তন হবে না। তবে গরমের সঙ্গে আর্দ্রতা মিলিয়ে অস্বস্তি অনেকটাই বাড়বে বলে আশঙ্কা।
জেলাভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১৯ ও ২০ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ-সহ কয়েকটি জেলায় হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাকি জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়াই থাকবে। ২১ ও ২২ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে।
২৩ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বীরভূম, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান-সহ একাধিক জেলায় আবার হালকা বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু তার মধ্যেও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে ভিন্ন ছবি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষদের বিশেষ সমস্যা হতে পারে। তাই দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে বেরোনো এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত জল খাওয়ার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে, তৃষ্ণা না পেলেও শরীরে জল ধরে রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত গরম থেকে স্বস্তির কোনও বড় সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী কয়েক দিন গরমের সঙ্গে বাড়তি অস্বস্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আম বাঙালিকে।