গুন্ডাদমন বিল ফেরত আসেনি বলে জানালেন শুভেন্দু অধিকারী (ছবি: ফেসবুক)শুক্রবার বেলার দিকে জানা যায়, গুন্ডাদমন বিলে সই করেননি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বিল ফেরত পাঠিয়েছেন। যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, গুন্ডাদমন বিল নিয়ে মিথ্য খবর প্রচার হচ্ছে। ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। এই বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছয়নি। ফলে ফেরত আসার কোনও ব্যাপারই নেই।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু গুন্ডাদমন বিল ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে শুক্রবার বেলার দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেই খবর সামনে আসার পরই সরকারকে আক্রমণ শুরু করে দেয় মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সিপিআইএম সহ একাধিক বিরোধী দল। এমন পরিস্থিতিতে রাতেই আবার সাংবাদিক সম্মেলনে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছয়নি। তাই ফেরত পাঠানোর কোনও জায়গাই নেই।
তিনি আরও জানান, এই বিলের দু'টি অংশ রয়েছে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অংশটি আগেই কার্যকর হয়েছে। অন্যটি রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। সেই মতো কাজ চলছে। এই বিল এখনও পাঠানোই হয়নি। বিল ফেরত এসেছে বলে মিথ্যে খবর ছড়িয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিল এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে যায়নি। কথা বলে জেনেই বলছি যে কাজ চলছে। মিথ্যে খবর ছড়ানো হচ্ছে। এই বিলের দুটি অংশ রয়েছে। একটি আগেই কার্যকর করা হয়েছে। অন্যটিও কার্যকর করা হবে।'
তাঁর মতে, যারা নিজেদের গুন্ডা বলে মনে করে, তারাই এই সব কথা বলছে। কারণ, এই সব ব্যক্তিরা জানে যে এই বিল আইনে পরিণত হলে ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, 'এত রাতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও ডিজিপির উপস্থিতিতে আপনাদের জানিয়ে দিলাম, এটা একেবারে ভুয়ো খবর। এসব চর্চা করবেন না। ভাল কাজে সময় ব্যয় করুন। এটাই আবেদন। বিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে রয়েছে। আমরা স্টাডি করেই করেছি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় জামিন যোগ্য রয়েছে। যেহেতু জামিন অযোগ্য করতে চেয়েছি, সেজন্য আলোচনা চলছে।'
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে যোগাযোগ করা হয়েছে। সাধারণভাবে কোনও বিলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে যেতে হয়। আর এই বিলের দুটো পার্ট রয়েছে। একটি ভাগ ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। সম্পতি বাজেয়াপ্ত করা, সুদ-সহ তিন গুণ আদায় করার পার্টটা লাগু হয়েছে। তবে অন্য ভাগটা স্বরাষ্ট্র দফতরে রয়েছে। সেটা নিয়ে কাজ চলছে।
শুভেন্দু অধিকারী মনে করছেন এই বিলে খুব তাড়াতাড়ি অনুমোদন মিলবে। তাতেই ফিরবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা।