নতুন দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে এসে এমনটাই বললেন কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ।Amit Shah: 'আগের মুখ্যমন্ত্রী চিঠি লিখলে বলতেন গুজরাত ঢুকতে দেব না,' হাওড়ার সাঁকরাইলে আমূলের নতুন দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে এসে এমনটাই বললেন অমিত শাহ।রবিবার সাঁকরাইলের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেন অমিত শাহ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে দাবি আমূল কর্তৃপক্ষের। প্রকল্পে কয়েকশো কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে এবং এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মিষ্টি দই শুধু এ রাজ্যের গর্ব নয়, দেশের খাদ্য সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্ল্যান্ট চালু হলে এখানকার উৎপাদিত দই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছবে। তিনি বলেন, সমবায়ভিত্তিক শিল্পের প্রসার কৃষক, বিশেষ করে দুগ্ধ উৎপাদকদের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আমূলের এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যের দুগ্ধশিল্পে নতুন গতি আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, সমবায় মডেলের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ, আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ এবং বৃহত্তর বাজারে বিপণনের মাধ্যমে উৎপাদকদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এই প্রকল্প শুধু একটি কারখানা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ও দুগ্ধভিত্তিক অর্থনীতির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তাঁর দাবি, নতুন প্ল্যান্ট চালু হলে হাজার হাজার দুগ্ধচাষি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি পরিবহণ, প্যাকেজিং, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গেও অনুরূপ একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আমূল কর্তৃপক্ষকে পশ্চিমবঙ্গে আইসক্রিম উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও দেন। তাঁর মতে, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুগ্ধজাত পণ্যের বহুমুখী শিল্প গড়ে উঠলে রাজ্যের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
শিল্প মহলের একাংশের মতে, সাঁকরাইলের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের পরিধি আরও বাড়বে। রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দইকে জাতীয় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য একটি স্থায়ী বিপণন ব্যবস্থাও তৈরি হতে পারে।