রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় কবে?পশ্চিম রাজস্থানের কিছু অংশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার বিদায় প্রক্রিয়া ১৯ সেপ্টেম্বর নাগাদ শুরু হচ্ছে। এদিকে রাজ্যেও কমেছে বৃষ্টি। মঙ্গল ও বুধবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কম থাকবে বলেই পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের। তবে এখনই বৃষ্টি থেকে মিলছে না রেহাই। দিন দুই বিরাম নিলেও ফের বর্ষার আবহাওয়া তৈরি হবে দক্ষিণবঙ্গে। এমনকী বিশ্বকর্মা পুজোতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিও এখনই স্বাভাবিক হচ্ছে না। পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের সতর্কতা জারি রয়েছে। চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে কেমন থাকবে বাংলার ২৩ জেলার আবহাওয়া? চলুন জেনে নেওয়া যাক হাওয়া অফিসের আপডেট।
হাওয়া অফিস কী বলছে?
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, মৌসুমী অক্ষরেখাটি রাজস্থান এবং গুজরাতের নিম্নচাপের উপর দিয়ে রাউরকেলা এবং দিঘার উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। যার জেরে দিন দুই বিরাম থাকলেও ফের দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বাড়বে। আজ, মঙ্গলবার ও কাল বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে। বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকায় অস্বস্তি অনেকটা বেড়েছে। তবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে আবার বৃহস্পতিবার থেকে। শনিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস বইতে পারে। অর্থাৎ শুক্রবার, বৃষ্টি সঙ্গে নিয়েই বিশ্বকর্মা পুজো হতে চলেছে।
নতুন করে নিম্নচাপের সম্ভাবনা
আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর নাগাদ দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্র উপকূলের কাছে একটি নিম্নচাপ আসতে পারে। পরবর্তীকালে এই নিম্নচাপটির নির্দিষ্ট গতিপ্রকৃতি কী হবে সেই ব্যাপারে আবহাওয়া দফতর এখনো কিছু জানায়নি। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রক্রিয়ায় যুক্ত কয়েকটি গাণিতিক মডেল মনে করছে, এই নিম্নচাপটি বেশ শক্তিশালী হবে এবং এর প্রভাবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টি বাড়বে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে বাড়বে বৃষ্টি
আগামী বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কম হবে।বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হয়ে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বাড়বে বলে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান জানিয়েছেন। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এখন দক্ষিণবঙ্গে কম। বুধবারের পর তা বাড়বে বলেই আশা করছে হাওয়া অফিস। উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল লাগোয়া বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলেও সেটা বিশেষ কিছু প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি চলবে
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কমলেও উত্তরবঙ্গের চিত্রটা ভিন্ন। পাহাড়ি জেলাগুলিতে আজও প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ির বেশ কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ এবং ব্যাপকতা বাড়বে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলাতে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা থাকছে। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহার জেলাতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা। শুক্রবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে। পাহাড়ি এলাকায় ধসের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার পরিস্থিতি
কলকাতায় আজ এবং আগামিকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কম থাকবে। হাওয়া অফিস বলছে, কলকাতাতেও আপাতত বড়সড় বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। দিনের বেশিরভাগ সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। মাঝে মাঝে রোদের দেখা মিললেও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি হয়ে দু-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস বইতে পারে। শনিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে শহরে। আজ, মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.২ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৮ থেকে ৯৬ শতাংশ।
বর্ষা বিদায়ের আপডেট
এবার মোটামুটি স্বাভাবিক সময়ে দেশ থেকে বর্ষার বিদায় শুরু হচ্ছে। পশ্চিম রাজস্থান থেকেই বর্ষা বিদায় শুরু হয়। তবে বাংলা থেকে বর্ষা বিদায়ের স্বাভাবিক সময় ১০ অক্টোবর, অর্থাৎ এখনো অনেকটাই দেরি আছে। সাধারণত ১২ অক্টোবর নাগাদ বর্ষা-বিদায় হয় কলকাতায়। উত্তর-পশ্চিম ভারতে বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে সেখানে শুকনো বাতাস ঢুকতে শুরু করবে। সেখান থেকে আগে বর্ষা বিদায় নেবে।