CJP কাছেই BJP-র পতন দেখছেন কল্যাণরাজনীতির ময়দানে কখনও কখনও লড়াইটা আর শুধু ভোটের অঙ্কে আটকে থাকে না। শব্দ হয়ে ওঠে অস্ত্র, কটাক্ষ হয়ে ওঠে আক্রমণের নিশানা, আর এক নেতার মন্তব্যেই তৈরি হয় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। এবার তেমনই বিস্ফোরক মন্তব্য শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। BJP-কে নিশানা করে তাঁর দাবি, বিজেপি বুঝে গেছে—‘ককরোচ পার্টি’র হাতেই শেষ হয়ে যাবে তারা। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে বড় মাথার খেলার জল্পনা।
জেনজি প্রসঙ্গে কল্যাণ বলেন- কালো মেঘের মধ্যে একটা আশার আলো দেখেছি। দিল্লির বুকে জেনজিরা যা করে দেখিয়ে দিয়েছে, তা আমরাও করতে পারিনি। শ্রীরামপুরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে একের পর এক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ উঠে আসে। রচনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন, এরা ‘সুযোগসন্ধানী ভদ্রমহিলা’। তাঁর দাবি, এরা রাজনীতিতে পচে গিয়েছেন এবং মানুষের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়ে উঠেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘কুড়িজন’ এবং ‘৬০ জন’-এর প্রসঙ্গও। কল্যাণের দাবি, মানুষের মধ্যে তাঁদের নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ ও ঘৃণা রয়েছে। কিন্তু এখানেই থামেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ। রাজ্যের এক বিধায়ক তথা মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়েও সরব হন তিনি।
কল্যাণের অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ‘মেঘের থেকে বার করে নিয়ে এসে’ দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য আসলে সরাসরি হুমকি দেওয়ার শামিল। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ওই বিধায়ককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভদ্রলোক হিসেবেই জানেন। তাহলে হঠাৎ করে এমন ‘ডিভিয়েশন’ কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।কল্যাণের কথায়, রাজ্যে বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, চলছে ‘পুলিশি রাজ’। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিককর্মী—সকলকেই নাকি ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, এক একজন ছেলেকে ধরে এনে ২৪ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক উত্তাপ যে ক্রমশ আরও বাড়ছে, তাঁর বক্তব্যে সেই ছবিই তুলে ধরতে চেয়েছেন তৃণমূলের এই সাংসদ।
এরপরই বিতর্ক আরও উসকে দেন অনন্ত মহারাজ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে সম্মান জানাতে হলে মুখ্যমন্ত্রীকে অনন্ত মহারাজকে গ্রেফতার করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, এসবই লোক দেখানো। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর সেই সাহস নেই, কারণ এমন পদক্ষেপ করলে তাঁর চাকরি চলে যেতে পারে।
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে পতাকা উত্তোলনের পর বন্দেমাতরম গাওয়া নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন কল্যাণ। তাঁর প্রশ্ন, ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার পর এতদিন কেন বন্দেমাতরম বাজানো হয়নি? যদি এখন তা করা হয়ে থাকে, তাহলে এতদিনের ব্যর্থতার দায় কার—সেই প্রশ্নই ছুড়ে দেন তিনি।সব মিলিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে একসঙ্গে উঠে এসেছে BJP, রচনা, রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়ক, অনন্ত মহারাজ থেকে প্রধানমন্ত্রী—একাধিক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। আর তাঁর ‘ককরোচ পার্টি’ মন্তব্য যেন সেই বিস্ফোরক বক্তব্যের কেন্দ্রে থাকা সবচেয়ে ধারালো রাজনৈতিক তীর। এখন দেখার, এই কটাক্ষের জবাবে পাল্টা আক্রমণের ভাষা কতটা তীব্র হয়।
রিপোর্টার- পার্থ রাহা