চোরবাগানে মৃত প্রিয়ার বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী।চোরবাগানে পদপৃষ্ট হয়ে মৃতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো বুধবার, দশমীর সকালে নিউ বারাকপুরে প্রিয়া সমাদ্দারের বাড়িতে গেলেন। প্রিয়ার মা-বাবার সঙ্গে কথা বললেন। সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেকও তুলে দিলেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হল ২ লক্ষ টাকা।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে কান্না ভেঙে পড়েন প্রিয়ার মা-বাবা। তারপর ২৫ লাখ ও ২ লাখ টাকার চেক প্রিয়ার বাবার হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন,'বাচ্চাটার নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে দেবেন'। মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন প্রিয়ার মা-বাবা। বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন,'সব জায়গায় যাচ্ছি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত হচ্ছে। আমরা সব তথ্য দিয়েছি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে। আমরা ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। পিএম রিলিফ থেকে ২ লাখ টাকা। আমরা ওঁকে কাজ দেব। চালাতে পারলে স্কুটিও দিতে বলেছি। মেয়েটা আদরের ছিল। মা ট্রমাতে আছেন। স্থানীয় বিধায়ক পরিবারের দেখাশোনা করবেন। সবাই পরিবারের পাশে আছে'।
চোরবাগানকাণ্ডে বিরোধীদের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালে ২৫ জনের একজন আহতকেও দেখতে আসেনি বিরোধীরা নেতারা। কোন বিরোধী? ওরা তো খালি সোশ্যাল মিডিয়া আর সংবাদমাধ্যমে আছে'।
সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন প্রিয়া সমাদ্দার। বয়স ২৯ বছর। নিউ ব্যারাকপুরের এপিসি কলেজে বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বাড়ি ব্যারাকপুর ২ ব্লকের ঘোলা থানার অন্তর্গত বিলকান্দা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। বাবা শ্যামল সমাদ্দার পেশায় দর্জি। মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছে না পরিবার। মা জানিয়েছেন,'সাধ্যের মধ্যে মেয়ের সব সাধ মেটাত বাবা। যা চাইত এনে দিত'। ওই দিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ ৫-৬ জন বন্ধুর সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন প্রিয়া সমাদ্দার। প্রথমে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের মণ্ডপে যান। তারপর চোরবাগান সর্বজনীন। প্রিয়ার বাবা শ্যামল সমাদ্দার জানিয়েছেন, মেয়ের এক বান্ধবী ফোনে জানান, প্রিয়া হাসপাতালে ভর্তি। তারপর হাসপাতালে পৌঁছন তাঁরা। সেখানে গিয়ে দেখেন মেয়ের নিথর দেহ। বাড়িতে রয়েছে প্রিয়ার সাড়ে তিন বছরের ছোট বোন।