গ্রেফতার ইমাম পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। মঙ্গলবার ভোরে পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে অভিযান চালিয়ে পিয়ার মহম্মদ শেখ নামে ওই ইমামকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
NIA সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলকোট থানার পুলিশের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে চার সদস্যের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল মসজিদে পৌঁছয়। সেখান থেকেই পিয়ার মহম্মদ শেখকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মঙ্গলকোট থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
ডায়েরিতে বাংলাদেশের একাধিক নম্বর
অভিযানের সময় মসজিদে ইমামের থাকার ঘরেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে NIA। তদন্তকারীদের দাবি, ডায়েরিতে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজনের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে। ওই নম্বরগুলির সঙ্গে পিয়ার মহম্মদ শেখের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে তাঁর বাংলাদেশ যাতায়াতও। স্থানীয়দের দাবি, ইমাম হিসেবে কাজ করার সময় একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছিলেন তিনি। মসজিদ কমিটির সদস্যদের বক্তব্য, গত তিন বছরে মোট প্রায় ছয় মাস বাংলাদেশে ছিলেন পিয়ার মহম্মদ শেখ। কয়েক মাস আগে সেখান থেকে ফিরে ফের মসজিদের দায়িত্ব নেন।
তিন বছর ধরে এই মসজিদেই ইমাম
পিয়ার মহম্মদ শেখের পৈতৃক বাড়ি মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কাছে তিনি শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
তবে বাংলাদেশে তাঁর যাতায়াতের কারণ এবং সেখানে কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, সেই বিষয়টিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোনও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না, থাকলে সেই যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
গুয়াহাটি-কাণ্ডের যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
তদন্তকারী সূত্রে আরও দাবি, পিয়ার মহম্মদ শেখের সঙ্গে অসমের গুয়াহাটির একটি ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই মুহূর্তে মূলত বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন, ডায়েরিতে থাকা নম্বর এবং তাঁর বিদেশযাত্রার তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলকোট বা আশপাশের এলাকায় তাঁর সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের পর পিয়ার মহম্মদ শেখকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই মামলায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।