বর্ষার পূর্বাভাসবিদায়ের পথে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে নতুন দুর্যোগের পরিস্থিতি। আগামী কয়েক দিনে তার প্রভাবে দেশের একাধিক রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এর মধ্যে রয়েছে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, ছত্তিসগঢ়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক এলাকা। চলুন জেনে নেওয়া যাক, নতুন সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া দুর্যোগ কতটা প্রভাব ফেলবে বাংলায়।
ইতিমধ্যেই উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশ থেকে বর্ষা বিদায় নিতে শুরু করেছে করেছে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। এদিকে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে জল্পনা জোরদার। যদিও এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে এখনও কিছুই জানায়নি মৌসম ভবন। এখনও পর্যন্ত তাদের পূর্বাভাস, এটা গভীর নিম্নচাপ।
ঘূর্ণিঝড় নয়, গভীর নিম্নচাপ
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, ২২ সেপ্টেম্বর পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা। এরপর পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর সকালের দিকে দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছতে পারে সেটি। এই গতিপথ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল জলীয় বাষ্প টেনে নিয়ে একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা দেখছেন না আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কাও। তিনি জানালেন, ২০ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে তৈরি হবে। ২২ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর তা পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে এটি। অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে অল্প সময়ের জন্য ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিও পেতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের সময় ধরা হচ্ছে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
কবে বৃষ্টিপাত?
২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে বলে সরকারি পূর্বাভাস। আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানান, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত আকাশ মূলত মেঘলা থাকতে পারে। বুধবার আবহাওয়া থাকবে আর্দ্র। তারপর মেঘলা আকাশের সঙ্গে মাঝে মধ্যে রোদ দেখা যেতে পারে। এর পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। যার গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। সঙ্গে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি।
উপকূলীয় জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির দাপট
সোমবার থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে উপকূলীয় জেলাগুলিতে। বুধবারের পর থেকে দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এর সঙ্গে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টি। উত্তাল সমুদ্র।