
কলকাতার ফের বৃষ্টির পূর্বাভাসশুক্রবারও কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যাপক বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন ছিল শহরের বিস্তীর্ণ এবাকা। সন্ধের সময় থেকে জল নামতেও শুরু করে। তবে আগামী কয়েক দিন একইভাবে বৃষ্টি চলতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েকদিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।
পূর্বাভাস বলছে, ২৬ জুন দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জেলায় এক বা দু’টি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতায়ও আকাশ আংশিক থেকে প্রধানত মেঘলা থাকতে পারে এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে।

২৭ জুন পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ২৮ জুন মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একই ধরনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
২৯ জুন দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি বাড়তে পারে। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ৩০ জুন ও ১ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বজায় থাকবে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক। ২৬ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। ২৬ জুন আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দার্জিলিং, কালিম্পং ও উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
২৭ ও ২৮ জুন উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। কিছু এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। ২৯ ও ৩০ জুনও একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে। পাশাপাশি তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাক-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বজ্রবিদ্যুতের সময় খোলা মাঠে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা দুর্বল কাঠামোর নিচে আশ্রয় না নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।