CJP করায় বাবাকে পিটিয়ে খুন, ইন্দাসে সেই হাফিজের বাড়িতে TMC প্রতিনিধিরাদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে ছেলের যোগদানের জেরে বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য শেখ আব্দুল হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সোমবার তাঁর বাড়িতে যান তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। শেখ আব্দুল হাফিজের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তৃণমূলনেত্রী।
এদিন শেখ আব্দুল হাফিজ বাড়িতে এসেছিলেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলার জয়েন্ট কনভেনার সুখেন বিদ। প্রসঙ্গত, বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিষুন্ডা গ্রামর সিজেপি সমর্থকের বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। নিহত শেখ মহম্মদ মাফিকের ছেলে শেখ আব্দুল হাফিজ সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। নিহতের ছেলের অভিযোগ, ১৩ অগাস্ট রাতে তাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে কিছু যুবক তাঁকে এবং তার বাবাকে মারধোর করে। শনিবার রাতে মৃত্যু হয় তার বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অভিজিৎ দীপকে।
শেখ আবদুল হাফিজের বক্তব্য অনুসারে, সিজেপি-র যন্তর মন্তরের আন্দোলন শেষে সম্প্রতি তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। আন্দোলনের ভিডিওও তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোষ্ট করেছিলেন। এর পরেই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর গত ১২ অগাস্ট সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’র বার্তা দেবার পর ১৩ অগাস্ট তিনি নিজের গ্রামের স্কুল করিষুন্ডা পশ্চিমপাড়া প্রাইমারি স্কুলে যান এবং সেখানকার শিক্ষকদের সঙ্গে স্কুলের সমস্যা, পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলেন। এরপর সেই ভিডিও তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করেন। আব্দুল হাফিজ জানিয়েছেন, ওইদিন রাতেই স্থানীয় বেশ কিছু বিজেপি কর্মী তাদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাঁকে মারধোর করে। ভয়ে তিনি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। ছেলেকে বাঁচাতে বাবা এগিয়ে এলে তাঁকে প্রচণ্ড মারধোর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ইন্দাস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসায় বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও ফের রাস্তা আটকে মারধোর করা হয়। বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে এলেও বাবার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে ১৫ তারিখ বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই রাতেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়।
দুষ্কৃতীরা বিজেপি করে বলে শেখ আব্দুল হাফিজের পরিবারের দাবি। এদিকে রবিবারই আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবুও স্বস্তি পাচ্ছেন না নিহতের পরিজনেরা। এ দিকে ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইন্দাস থানায় জমায়েতের ডাক দিয়েছে সিজেপি।