গাইঘাটা এনকাউন্টার: অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসলক্ষ্মীরপুজোর সকালে গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির কিশোরীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। শনিবার বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি ওই কিশোরী। পরের দিন অর্থাত্ সোমবার সকালে এক আত্মীয়ের বাড়ির পিছনে, শৌচাগারের কাছ থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে প্রহ্লাদের।
প্রহ্লাদের মৃত্যুতে খুশি ওই কিশোরীর পরিবার। কিশোরীর বাবার কথায়, 'আমার মেয়েকে তো আর ফেরত পাবো না। সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভাল করেছে। অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে গুলি চালিয়েছিল। পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ওর যা হয়েছে ভাল হয়েছে। যাতে এটা দেখে মানুষ শিক্ষা নেয়।'
ঠিক কী হয়েছিল গাইঘাটায়?
শনিবার রাতে ১৭ বছরের এক কিশোরী বাড়ির কাছেই একটি জলসা দেখতে বেরিয়েছিল বন্ধুদের সঙ্গে। রাত হয়ে গেলেও ওই কিশোরীর খোঁজ না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। শনিবার রাতে জলসা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। পরিবারের বক্তব্য, সে দিন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ওই কিশোরীকে কেউ একজন ফোন করে। তখন সে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এদিকে রাতভর খোঁজাখুঁজি চালাতে থাকেন পরিবারের লোকেরা। পরের দিন অর্থাত্ রবিবার সকালে কিশোরীর নগ্ন, রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কিশোরীর এক আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঠিক কীভাবে গভীর রাতে এনকাউন্টার হল?
পুলিশি জেরায় দোষ কবুল করে প্রহ্লাদ দাস। তাকে মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ পর্ব শেষে ফেরার সময়ে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করে অভিযুক্ত। কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নেয়। পর পর তিন রাউন্ড গুলি চালায় প্রহ্লাদ। প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। সে সময় এক পুলিশকর্মী জখম হন। একজন রাস্তার ধারের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। তার পরে আত্মরক্ষার জন্য চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশও। তার মধ্যে একটি গুলি লাগে অভিযুক্তের গায়ে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক প্রহ্লাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ধর্ষকদের ভয় পাওয়াতে হবে: দিলীপ ঘোষ
বারুইপুরের গাইঘাটা এনকাউন্টারের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, 'ধর্ষকদের ভয় পাওয়াতে হবে। একদিনে তো হবে না। তবে আস্তে আস্তে হবে। বারুইপুরে হয়েছে। এখানে হয়েছে। এইভাবে মনে ভয় ঢুকবে।'