১১০ কিমি বেগে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের পূর্ব উপকূলে আবারও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। ভারতীয় মৌসম বিভাগ (IMD) অনুসারে, ঘূর্ণিঝড় মুরাসু পশ্চিম-মধ্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর সক্রিয় রয়েছে। ঝড়টি দ্রুত উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
The Severe Cyclonic Storm “Murasu” [Pronunciation: Murasu]” over Westcentral & adjoining Southwest Bay of Bengal moved west-northwestwards with a speed of 25 kmph during past 06 hours and lay centered at 0530 hours IST of today, the 02nd November, 2026 over the same region near Latitude 13.9°N and Longitude 81.8°E, about 200 km east-northeast of Chennai (Tamil Nadu), 210 km east-southeast of Nellore (Andhra Pradesh), 270 km south-southeast of Machilipatnam (Andhra Pradesh), 220 km east-southeast of Kavali (Andhra Pradesh), and 260 km southeast of Ongole (Andhra Pradesh). It is very likely to move northwestwards and cross south Andhra Pradesh coast as a Severe Cyclonic Storm with wind speed of 100 to 110 kmph gusting to 120 kmph between Nellore and Narsapur close to Ongole during midnight (2330 Hrs IST) of today, the 02nd November to early hours (0400 Hrs IST) of tomorrow, the 3rd November, 2026.
— India Meteorological Department (@Indiametdept) November 2, 2026
স্কাইমেট ওয়েদার এবং IMD-র তথ্য অনুযায়ী, এটা স্পষ্ট যে মুরাসু এখন একটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।
বাংলার ওপর কী প্রভাব?
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নিয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে গত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তবে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু নিয়ে আপাতত বাংলার জন্য কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে কলকাতা-সহ রাজ্যের কিছু এলাকায় এক-দু'দফা বৃষ্টি হতে পারে। সেই বৃষ্টির প্রভাব গত সপ্তাহের ঘূর্ণিঝড় অর্নবের তুলনায় অনেকটাই কম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃষ্টির সম্ভাবনা এই জেলাগুলিতে
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে মুরাসু। মাঝরাতের পর অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যে, ওঙ্গোলের কাছে ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও, এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আপাতত কোনও সতর্কতা নেই। তবে চলছে নজরদারি। এই ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের পর মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় রয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা। এর মধ্যে কলকাতা-সহ ৯-১০টি জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। ৩ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে কয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বাকি জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হতে পারে। ২ নভেম্বর সকাল থেকে সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত হাওয়ার গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ২ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।