অনন্তর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুভেন্দুর নেতাজি সুভষচন্দ্র বসুকে অপমান বরদাস্ত নয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মান কেড়ে নেওয়া হল বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের। আজ বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার নবান্নের সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। নেতাজীকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ করতে হবে, প্রয়োজনে গ্রেফতার করতে হবে বলেও নির্দেশ দেন তিনি। দল-মতের নিরিখে কেউ ছাড় পাবেন না। জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল।
প্রসঙ্গত, নেতাজিকে দেশদ্রোহী বলে উল্লেখ করেছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। একাধিকবার কুকথা বললেও তিনি ক্ষমা চাননি। ক্ষমা না চেয়ে নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, 'আমি কেন একমত থাকব। কাগজ বলছে। আমি যা বলেছি, ভারত সরকাররে আর্কাইভ বিভাগে বইটি আছে। কাগজ যুদ্ধাপরাধী বলছে। তখনকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু। কথাগুলি তো কংগ্রেসের।'
এদিকে অনন্ত মহারাজের এই মনোভাব নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল বিজেপির অন্দরে। সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছিল রাজ্য সরকারকে। তারপরই সাংবাদিক বৈঠকে নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে যে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ তা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তাঁর থেকে।
নির্দেশিকায় লেখা, অনন্ত মহারাজকে প্রদান করা বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার ও বাতিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে তিনি বঙ্গবিভূষণ পেয়েছিলেন। রাজ্য ও রাজ্যের মানুষের প্রতি বিশিষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্মান প্রদানের পর এমন কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি সরকারের নজরে এসেছে, যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর বলে বিবেচিত হয়েছে। এর ফলে অনন্ত মহারাজের ক্ষেত্রে বঙ্গবিভূষণ সম্মান বহাল রাখা উচিত কি না, এবং তা ওই সম্মানের মর্যাদা, গরিমা ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্ত নথিভুক্ত তথ্য ও উপাদান খতিয়ে দেখেছে।
সরকারি নির্দেশে আরও জানানো হয়েছে, অনন্ত মহারাজ আর বঙ্গবিভূষণ সম্মানের প্রাপক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পারবেন না। ওই সম্মান থেকে উদ্ভূত কোনও স্বীকৃতি, সুবিধা, অধিকার বা মর্যাদাও তিনি ভবিষ্যতে দাবি বা গ্রহণ করতে পারবেন না। পাশাপাশি, বঙ্গবিভূষণ প্রাপকদের সরকারি নথি ও তালিকা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।