মালদা মেডিক্যাল কলেজে সারপ্রাইজ ভিজিটে মন্ত্রীহাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিটে তলে গেলেন মন্ত্রী। আর তাতেই ধরা পড়ল রাশি রাশি বেনিয়ম। কোথাও ওয়ার্ডে দেখা নেই চিকিৎসকের, কোথাও আবার হাসপাতালের রান্নাঘরের বেহাল দশা। এমনকী জরুরি বিভাগের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ রোগীদের। ঘটনাটি ঘটেছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
আচমকা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এই ছবি নিজের চোখে দেখে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। আগে থেকে কোনও বিশেষ প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই হাসপাতালে ঢুকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। আর হাসপাতালের ভিতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই সামনে আসে একাধিক সমস্যা। কোথাও চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, কোথাও পরিকাঠামোর ঘাটতি, পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসকের দেখা না মেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। রোগীদের পরিষেবা নিয়ে খোঁজ নেন। চিকিৎসক কম থাকার বিষয়টিও তাঁর নজরে আসে। হাসপাতালের পরিকাঠামোগত সমস্যার কথাও কার্যত স্বীকার করে নেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধুমাত্র রোগীর সংখ্যা বাড়লেই হবে না, সেই অনুপাতে চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে।
এদিন মন্ত্রী সুমনা সরকার হাসপাতালে ঢুকতেই হঠাৎ শুরু হয়ে যায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় ঝাড়পোঁছ। আর সেই দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুমনা সরকার। তাঁর প্রশ্ন, মন্ত্রী আসার খবর পেলেই যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করতে হয়, তাহলে নিয়মিত হাসপাতালের এই পরিষেবা কেন ঠিকমতো বজায় থাকে না?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আসে জরুরি বিভাগকে ঘিরে। অভিযোগ, এক রোগী বেলা 2টো থেকে জরুরি বিভাগের সামনে বসে ছিলেন। কিন্তু রাত 7টা পর্যন্তও চিকিৎসা মেলেনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসে থাকার এই অভিযোগ সামনে আসতেই হাসপাতালের পরিষেবা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখে মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রোগীদের পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। চিকিৎসা পরিষেবা থেকে শুরু করে হাসপাতালের পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা—প্রতিটি বিষয়েই নজরদারি প্রয়োজন।
- মিলটন পাল