পাসবই আপডেটের নামে আঙুলের ছাপ, মালদায় জনতার ২ কোটি টাকা উড়িয়ে দিল গ্রাহক সেবাকেন্দ্র

প্রথম কয়েক মাস সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও আসল গোলমাল বাধে গ্রাহকদের পাসবই আপডেট করার সময়। অভিযোগ উঠেছে যে পাসবই আপডেট করানোর অছিলায় একটি ডিজিটাল গ্যাজেটে প্রত্যেকের আঙুলের ছাপ নেওয়া হতো এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিঙ্ক ফেলিওর বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার দোহাই দিয়ে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো।

Advertisement
পাসবই আপডেটের নামে আঙুলের ছাপ, মালদায় জনতার ২ কোটি টাকা উড়িয়ে দিল গ্রাহক সেবাকেন্দ্রপাসবই আপডেটের নামে আঙুলের ছাপ, মালদায় জনতার ২ কোটি টাকা উড়িয়ে দিল গ্রাহক সেবাকেন্দ্র (প্রতীকী ছবি)

ব্যাঙ্কের পাসবই আপডেট করিয়ে দেওয়ার অছিলায় অভিনব কায়দায় আঙুলের ছাপ নিয়ে গ্রামবাসীদের প্রায় দুকোটি টাকা আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল মালদায়। ইংরেজবাজার থানার কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের নিত্যানন্দপুর গ্রামের এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে ওই গ্রামের বাসিন্দারা যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক সেটি প্রায় বারো কিলোমিটার দূরে ইংরেজবাজার শহরে অবস্থিত হওয়ায় নিত্যদিন সেখানে যাতায়াত করা সম্ভব হতো না।

গ্রামবাসীদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে প্রায় দুবছর আগে ওই গ্রামেই নিজের বাড়ির নীচের তলায় একটি গ্রাহক সেবা কেন্দ্র বা সিএসপি চালু করেন স্থানীয় বাসিন্দা সত্যজিৎ লালা। সেখানে কাজ দেখাশোনার জন্য মুন্না নামে এক কর্মীকেও নিয়োগ করা হয়। ঘরের কাছে এই কেন্দ্রটি খোলায় নিত্যানন্দপুর ছাড়াও আশপাশের শ্রীরামপুর ও চণ্ডীপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা টাকা জমা এবং তোলার মতো ব্যাঙ্কের নানা কাজের জন্য এখানে ভিড় করতে শুরু করেন।

প্রথম কয়েক মাস সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও আসল গোলমাল বাধে গ্রাহকদের পাসবই আপডেট করার সময়। অভিযোগ উঠেছে যে পাসবই আপডেট করানোর অছিলায় একটি ডিজিটাল গ্যাজেটে প্রত্যেকের আঙুলের ছাপ নেওয়া হতো এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিঙ্ক ফেলিওর বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার দোহাই দিয়ে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো। ফলে তাঁদের অ্যাকাউন্টে আদেও টাকা জমা পড়ল কি না তা সাধারণ মানুষ জানতে পারতেন না। এমনকি সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়েও কৌশলে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ওই সেবা কেন্দ্রের কর্মীদের গতিবিধি ও আচরণ দেখে স্থানীয় মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। বুধবার কয়েকশো গ্রামবাসী একজোট হয়ে ওই কেন্দ্রে পৌঁছালে দেখতে পান যে সেখানে তালা ঝুলছে। এই খবর চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়তেই প্রতারিত গ্রাহকেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন।

প্রতারণার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গ্রামবাসীদের একাংশ ইংরেজবাজার শহরের নেতাজি সুভাষ রোড সংলগ্ন ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মূল শাখায় গিয়ে নিজেদের অ্যাকাউন্টের খোঁজ নিতেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। দেখা যায় যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই জমা পড়েনি এবং অনেকের জমানো পুঁজি সাফ হয়ে অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দে ইতি মণ্ডল এবং সুমন ঘোষরা একসুরে অভিযোগ করেন যে কারও অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ লক্ষ আবার কারও অ্যাকাউন্ট থেকে দশ লক্ষ টাকা গায়েব করা হয়েছে এমনকি একজনের অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ষোলো লক্ষ টাকাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী প্রায় হাজারখানেক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সবমিলিয়ে প্রায় দুকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার প্রবীণ কুমার জানান যে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় এই জালিয়াতি করা হয়েছে এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত সত্যজিৎ লালা গা ঢাকা দিয়েছে এবং ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়ে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

 

POST A COMMENT
Advertisement