
কোচবিহারের দিনহাটা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমির মাপজোকউত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলছে। তার উপর সাপের ভয়ও রয়েছে। কিন্তু সীমান্তের সুরক্ষার সঙ্গে আপোষ করা যাবে না। যার নির্যাস, যাবতীয় প্রতিকূলতার মধ্যেই বিএসএফ-এর জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েগিয়েছে জোরকদমে। কোচবিহারের দিনহাটায় দু নম্বর ব্লকে দেখা গেল, এক হাঁটু কাদা জলে নেমে জমির মাপজোক করছেন রাজ্য সরকারের অফিসাররা। ক্ষমতায় এসেই সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বহু প্রতীক্ষিত ১৮ একর জমি বিএসএফ-কে হস্তান্তর করে দিয়েছে বিজেপি সরকার।
ডেডলাইনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য দুটি টিম ভাগ করে দেওয়া হয়েছে
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে দেওয়া হবে। সেই মতো কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, ডেডলাইনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য দুটি টিম ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা সপ্তাহান্তেও কোনও ছুটি না নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে একদল কাজ করছেন মাঠে নেমে। আরেকদল কাজ করছেন অফিসে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাপজোকের কাজ
ফিল্ডে কাজ করছেন রেভিনিউ ইনস্পেক্টর ও জমি সমীক্ষকরা। এঁরা জল কাদা ভর্তি ধানজমিতে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাপজোকের কাজ করছেন। বিষাক্ত সাপের ভয়কে উপেক্ষা করে। কারণ, ওই সব এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপের উপদ্রব রয়েছে। আরেকদল ব্যাক এন্ডে কাজ করছেন। তাঁরা বিএসএফ-এর জমি সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলি বাংলারভূমি সরকারি পোর্টালে থাকা জমির রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে দাগ ও খতিয়ান নম্বর খতিয়ে দেখে বর্তমান জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

সরকার জমির মালিকদের থেকে জমি কিনবে ও বিএসএফ-কে হস্তান্তর করে দেবে
জমি চিহ্নিত হয়ে গেলে, যাঁরা জমির মালিক, তাঁদের তালিকা জেলাশাসকের অফিসে পাঠানো হবে। তারপর রাজ্য সরকার জমির মালিকদের থেকে জমি কিনবে ও বিএসএফ-কে হস্তান্তর করে দেবে। দিনহাটা-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ, বিশেষ করে সাহেবগঞ্জ, দিঘলতারি এবং গরলঝোড়া এলাকা এখনও পর্যন্ত কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে রয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের এই ফাঁকগুলি বন্ধ করতে যে ১৮ একর জমির প্রয়োজন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দিনহাটার এসডিও ভরত সিং এই জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের অনুমান, আবহাওয়ার আরও অবনতি না হলে দিনহাটা-২ ব্লকে জমির সমীক্ষার কাজ আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
রিপোর্টার: মনসুর হাবিবুল্লাহ