Zomato ডেলিভারি বয় থেকে কমার্শিয়াল Pilot! অসম্ভবকে সম্ভব করলেন যুবক

স্বপ্নটা দেখেছিলেন কিশোর বয়সে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে কেটে গিয়েছে ১০ বছর। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২০টি ব্যাকলগ, আর্থিক অনটন, বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা; কোনও কিছুই হার মানাতে পারেনি কেরলের হাইজিল জেবিকে।

Advertisement
Zomato ডেলিভারি বয় থেকে কমার্শিয়াল Pilot! অসম্ভবকে সম্ভব করলেন যুবক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২০টি ব্যাকলগ, আর্থিক অনটন, বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা; কোনও কিছুই হার মানাতে পারেনি কেরলের হাইজিল জেবিকে।
হাইলাইটস
  • স্বপ্নটা দেখেছিলেন কিশোর বয়সে।
  • স্বপ্ন পূরণ করতে কেটে গিয়েছে ১০ বছর।
  • পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে পাড়ি দিয়েছেন ফিলিপিন্সে।

স্বপ্নটা দেখেছিলেন কিশোর বয়সে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে কেটে গিয়েছে ১০ বছর। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২০টি ব্যাকলগ, আর্থিক অনটন, বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা; কোনও কিছুই হার মানাতে পারেনি কেরলের হাইজিল জেবিকে। কখনও জোম্যাটোর ডেলিভারি পার্টনার, কখনও টিউশনি, আবার কখনও ট্রাক চালানোর কাজ করেছেন। শুধু একটি স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে। ৩০ বছর বয়সে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেলেন হাইজিল। পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে পাড়ি দিয়েছেন ফিলিপিন্সে।

কেরলের ত্রিশূর জেলার কোডুঙ্গাল্লুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছেন হাইজিল। তাঁর বাবা বিদেশে টাইপিস্টের কাজ করতেন। মা গৃহবধূ। পরিবারের আর্থিক অনটন। খুব ছোটবেলা থেকেই বুঝিয়েছিলেন, নিজের পায়ে দাঁড়ানো কতটা জরুরি। প্রথমে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বার বার ব্যর্থ হন।

দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তাঁর পাইলট হওয়ার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু সে তো অনেক টাকার ব্যাপার! সেই পথে এগোনো হয়নি। ভর্তি হন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। তবে তাতে তাঁর মোটেও আগ্রহ ছিল না। একের পর এক পরীক্ষায় ফেল করেন। জমে যায় ২০টি ব্যাকলগ। পরে যদিও তাঁর টনক নড়ে। অন্তত ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েশনটা তো করতে হবে! শুরু করেন পড়াশোনা। এরপর এক চান্সে রিটেস্ট দিয়ে সব ক’টি পাশ করেন। যদিও মার্কশিটে এত ব্যাক পাওয়ায় চাকরি পাননি।

সংসার চালাতে কোচিতে জোম্যাটোর ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে বেঙ্গালুরুতে Byju's-এ অঙ্কের শিক্ষক হন। পাশাপাশি সেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই সময়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা। কোভিডের সময় দুবাইয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান। ২০২১ সালের জুনে বাবার মৃত্যু হয়। পরিবারের বড় ছেলে হিসাবে সংসারের দায়িত্বও এসে পড়ে হাইজিলের কাঁধে।

এর পরেও থামেননি তিনি। ট্রাকচালক, বাসচালক-সহ নানা কাজ করেছেন। আর্থিক অনিশ্চয়তা ও বার বার ব্যর্থতা সত্ত্বেও হার মানেননি। অল্প অল্প করে টাকা জমাতে থাকেন। তারপর একদিন ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক থেকে এডুকেশন লোনও পেয়ে যান। সেই টাকাতেই ফিলিপিন্সে প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন তিনি।

Advertisement

হাইজিলের কথায়, 'স্বপ্ন পূরণের জন্য ১০ বছর অপেক্ষা করেছি। আর পিছিয়ে দিতে চাইনি।' এখনও বিমানসংস্থায় পাইলট হওয়ার লম্বা জার্নি বাকি। তাঁর বিশ্বাস, চেষ্টা থামালে স্বপ্নও থমকে যায়। তাই তাঁর একটাই মোটো, 'চেষ্টা চালিয়ে যান। ধৈর্য ধরুন। এক দিন ঠিক সফল হবেন।' 

POST A COMMENT
Advertisement