সাপ বারবার যাতায়াত করলে তার শরীরের ঘর্ষণে গর্তের মুখের মাটি মসৃণ হয়ে যায়।Snake Hole Identification: বর্ষা ও গরমে বাড়ির বাগান, উঠোন কিংবা দেওয়ালের কোণে ছোট ছোট গর্ত? অনেকেই সেগুলিকে ইঁদুর বা অন্য কোনও প্রাণীর গর্ত ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ভুল বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ, সাপ সাধারণত নিজে গর্ত খোঁড়ে না। বরং ইঁদুর, কাঠবিড়ালি বা অন্য প্রাণীর ফেলে যাওয়া গর্ত দখল করে সেখানে বাসা বাঁধে।
তাই বাড়ির আশপাশে কোনও সন্দেহজনক গর্ত নজরে এলে সতর্ক থাকা জরুরি। কয়েকটি সহজ লক্ষণ দেখেই বোঝা যেতে পারে সেটি সাপের দখলে রয়েছে কি না।
গর্তের মুখ অস্বাভাবিক মসৃণ?
বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও গর্তের চারপাশ যদি অস্বাভাবিক ভাবে মসৃণ ও পরিষ্কার দেখায়, তা হলে সেখানে সাপের উপস্থিতি থাকতে পারে। সাপ বারবার যাতায়াত করলে তার শরীরের ঘর্ষণে গর্তের মুখের মাটি মসৃণ হয়ে যায়।
অন্য দিকে, ইঁদুরের গর্তের সামনে সাধারণত খোঁড়া মাটির স্তূপ বা আলগা মাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আশপাশে খোলস?
সাপের উপস্থিতির অন্যতম বড় প্রমাণ হল খোলস। সময় সময় সাপ তার পুরনো চামড়া বদলায়। সেই কারণে গর্তের কাছে কাগজের মতো পাতলা, শুকনো খোলস দেখতে পেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন খোলস পাওয়া মানেই আশপাশে সাপের আনাগোনা রয়েছে।
মাটিতে দেখুন
সাপের পা নেই। ফলে চলাফেরার সময় তারা মাটিতে বিশেষ ধরনের চিহ্ন রেখে যায়। গর্তের আশপাশের ধুলো বা নরম মাটিতে যদি ইংরেজি ‘S’ অক্ষরের মতো আঁকাবাঁকা দাগ দেখা যায়, তা হলে ধরে নেওয়া যায় সাপ সম্প্রতি ওই পথ দিয়ে গিয়েছে।
অদ্ভুত ধরনের মল?
সাপের মলও তার উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে। সাধারণত এটি কালচে বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়। এক প্রান্তে সাদা বা চকচকে অংশ দেখা যায়, যা ইউরিক অ্যাসিডের কারণে তৈরি হয়।
অনেক সময় সেই মলের মধ্যে ইঁদুরের লোম বা ছোট হাড়ের অংশও পাওয়া যেতে পারে।
গর্তের মুখে জাল নেই?
এটি খুব সাধারণ অথচ কার্যকর একটি লক্ষণ। কোনও গর্তের মুখে যদি মাকড়সার জাল বা শুকনো পাতা জমে থাকে, তা হলে সেটি দীর্ঘদিন ব্যবহার হয়নি বলেই ধরে নেওয়া যায়।
কিন্তু গর্তের মুখ যদি একেবারে পরিষ্কার থাকে, তা হলে সেখানে কোনও প্রাণীর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে মনে করা হয়।
কী করবেন?
বাড়ির আশপাশে এমন কোনও সন্দেহজনক গর্ত দেখলে কখনও হাত, লাঠি বা অন্য কিছু ঢুকিয়ে পরীক্ষা করার চেষ্টা করবেন না। এতে বিপদের আশঙ্কা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বন দফতর, সাপ উদ্ধারকারী দল বা বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।