Florida Restaurant Free Python Pizza: অজগর আনলেই মিলবে গরম গরম ফ্রি পিৎজা, খদ্দের টানতে রেস্তোরাঁর আজব অফার Florida Restaurant Free Python Pizza: ভোজনরসিকদের নজর কাড়তে দেশ বিদেশের রেস্তোরাঁগুলি কত রকমের অভিনব অফারই না দিয়ে থাকে। তবে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক রেস্তোরাঁ যে কাণ্ডটি ঘটাল তা শুনলে রীতিমতো গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য। সেখানে কোনও সাধারণ ছাড় বা উপহার নয়, সরাসরি আস্ত একটি অজগর সাপ নিয়ে গেলেই গ্রাহকদের একদম বিনামূল্যে পিৎজা খাওয়ানোর অফার দেওয়া হচ্ছে।
এভারগ্লেডস সিটির ওয়াইল্ডম্যানস পিৎজা নামের এই জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর মালিক ডাস্টিন ক্রাম এই অদ্ভুত প্রচার শুরু করেছেন। তাঁর রেস্তোরাঁয় মৃত অথবা জীবিত বার্মিজ অজগর নিয়ে হাজির হলেই মিলবে পছন্দসই একটি বড় আকৃতির স্পেশাল পিৎজা। অদ্ভুত শোনালেও এই অফারটি কিন্তু স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। আসলে ফ্লোরিডায় দীর্ঘদিন ধরে বার্মিজ অজগরের উপদ্রব একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে করা হয় যে সত্তর বা আশির দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে এই সাপ ফ্লোরিডায় আনা হয় এবং পরবর্তীতে বন্য পরিবেশে এদের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। বর্তমানে সেখানে বন্য অজগরের সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান। এই বিশাল সাপগুলি একের পর এক স্থানীয় বন্যপ্রাণী গিলে খাচ্ছে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করছে। স্ত্রী বার্মিজ অজগর এক দফায় প্রায় ৭০টি পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে এবং এরা দৈর্ঘ্যে ২০ ফুটেরও বেশি লম্বা হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্লোরিডা প্রশাসন প্রতি বছর সরকারিভাবে পাইথন চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি বা সবচেয়ে বড় অজগর ধরতে পারলে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হয়। এই সরকারি অভিযানের সঙ্গে তাল মিলিয়েই রেস্তোরাঁ মালিক ডাস্টিন তাঁর অফারটি এনেছেন। ডাস্টিন জানান যে অনেকেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বা স্থানীয়ভাবে অজগর ধরে ফেলেন কিন্তু পরে সেই সাপ নিয়ে কী করবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না। বিশেষ করে স্থানীয় যুবকেরা অজগর ধরার পর তা রেস্তোরাঁয় এনে জমা দিয়ে হাসিমুখে গরম পিৎজা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। যদিও খাদ্য সুরক্ষা ও সরকারি স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ির কারণে রেস্তোরাঁয় সরাসরি অজগরের মাংসের তৈরি পিৎজা বিক্রি করা আইনিভাবে নিষিদ্ধ। তাই ডাস্টিন এটি বিক্রি না করে গ্রাহকদের উপহার হিসেবে ফ্রিতে দিচ্ছেন। বন্যপ্রাণী সুরক্ষার এই অদ্ভুত উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করছে, তেমনই ভোজনরসিকদের মধ্যেও ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।