আজীবন পেনশনের গ্যারান্টিপ্রত্যেকেই তাদের আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় করে এবং এমনভাবে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করে যাতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য মুনাফা নিশ্চিত হয়। কেউ কেউ অবসর গ্রহণের পর আর্থিক দুশ্চিন্তামুক্ত স্থির আয় নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ করেন। এই প্রসঙ্গে, মোদী সরকারের একটি পেনশন প্রকল্প অত্যন্ত জনপ্রিয়। আমরা অটল পেনশন যোজনার কথা বলছি, যা প্রতি মাসে মাত্র ২১০ টাকা জমা দিয়ে আজীবন ৫,০০০ টাকার পেনশনের নিশ্চয়তা দেয়।
বার্ধক্যে কোনও আর্থিক চাপ থাকবে না
সবাই বৃদ্ধ হবে, তাই সেই সময়ের জন্য ব্যবস্থা করে রাখা জরুরি, যাতে আর্থিকভাবে অন্যের উপর নির্ভর করতে না হয়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন যে, উপার্জন শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই বার্ধক্যের জন্য ব্যবস্থা করা শুরু করা উচিত। যত আগে বিনিয়োগ করবেন, তত বেশি লাভবান হবেন। অটল পেনশন যোজনায় অল্প সঞ্চয়ও অবসরের পর নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে পারে।
৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত পেনশন
বার্ধক্যে পেনশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং অটল পেনশন স্কিম (APY)-এর অধীনে আপনি ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আজীবন পেনশন পেতে পারেন। আপনার বয়স যদি ৪০-এর কম হয়, তবে এই সরকারি প্রকল্পে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করে আপনি আপনার বার্ধক্যকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারেন। একটি নির্দিষ্ট মাসিক পেনশন পেলে তা দিয়ে সহজেই আপনার দৈনন্দিন খরচ মেটানো সম্ভব।
৬০ বছর বয়স হলেই পেনশন শুরু হয়
অটল পেনশন যোজনায় যোগদানের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪০ বছর। এই স্কিমের অধীনে পেনশন পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই কমপক্ষে ২০ বছর বিনিয়োগ করতে হবে। ৬০ বছর বয়সে পৌঁছলে আপনি একটি নির্দিষ্ট মাসিক পেনশন পেতে শুরু করেন। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে, ৬০ বছর বয়সের আগে বিনিয়োগকারীরা তাদের ফান্ড উত্তোলন করতে পারেন।
৫,০০০ টাকা পেনশন পাওয়ার হিসেব
ধরুন, একজন ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ শুরু করলেন। তিনি প্রতি মাসে অটল পেনশন যোজনায় (APY) ২১০ টাকা বিনিয়োগ করবেন। দৈনিক ভিত্তিতে হিসাব করলে, এই পরিমাণ অর্থ জমার ফলে তাঁর দৈনিক সঞ্চয় হয় মাত্র ৭ টাকা। নিয়মিত এই পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার ফলে, তিনি ৬০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর মাসিক ৫,০০০ টাকা পেনশন পাবেন।
ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্ট
অটল পেনশন যোজনায় বিনিয়োগ করার জন্য আপনার একটি ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক। আধার কার্ড এবং একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বরও প্রয়োজন। এই প্রকল্পে মাসিক, ত্রৈমাসিক এবং ষান্মাসিক জমার বিকল্প রয়েছে। অটো-ডেবিটের সুবিধাও রয়েছে, যার অর্থ আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়া হবে। ৯ কোটিরও বেশি মানুষ এই সরকারি প্রকল্পে যোগদান করেছেন।