রেশন দোকানে কী কী পাওয়া যাবে সস্তায়?রেশন দোকান থেকে মূলত চাল ও গম পাওয়া যায়। তবে জনস্বার্থে এবার রেশন দোকানেও মিলবে নিত্য প্রয়োজনীয় একাধিক খাদ্যদ্রব্য। সেগুলি বাজার দরের তুলনায় অনেকটা সস্তায় পাওয়া যাবে। এমনই সিদ্ধন্ত নিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার।
আসলে চাল-গমের বাইরে যাতে অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীও রেশন দোকানে পাওয়া যায়, এমন দাবি অনেক দিন ধরেই করে এসেছে দোকানদাররা। আর সেই দাবিই এবার সরকার মেনে নিয়েছে বলে খবর মিলছে। এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনায় চাল ও গমের বাইরেও নানাবিধ সামগ্রী সস্তায় মিলবে রেশন দোকানে।
ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কোঅপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (নাফেড)-এর সঙ্গে রেশন দোকানদারদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের একটি চুক্তি হয়ে গিয়েছে। তারপরই সামনে এসেছে নতুন বিজ্ঞপ্তি।
কী কী জিনিস পাওয়া যাবে?
এখন মূল্যবৃদ্ধির বাজার। অধিকাংশ জিনিসের দাম অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে রেশন দোকান থেকেই ১১৭ রকমের সামগ্রী বিক্রির দাবি উঠেছে। এক্ষেত্রে ডাল, ডালিয়া, সয়াবিন, ড্রাই ফ্রুট, বিস্কুট থেকে শুরু করে নানা জিনিস রেশন দোকানে থাকবে বলে জানা গিয়েছে। যদিও কোন কোন সামগ্রী সেই লিস্টে থাকবে, সেটা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছুই জানা যায়নি। তবে এটুকু পরিষ্কার, মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ জিনিসই পাওয়া যাবে রেশন দোকানে।
যতদূর খবর, এই সব সামগ্রীর বাজার দর ঠিক যতটা, তার থেকে বেশ কিছুটা কম দামে মিলবে রেশন দোকানে। যার ফলে সাধারণ মানুষের সংসার চালাতে বেশ কিছুটা সুবিধা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোথায় কোথায় চালু হবে?
পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবেই রেশন দোকানে নানাবিধ খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যাবে। আর সেই প্রোজেক্টের অংশ হবে পশ্চিমবঙ্গ। এছাড়া বিহার, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের রেশন দোকানেও এই প্রোজেক্ট পাওয়া যাবে বলে খবর মিলছে।
তাই আশা করা যায়, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গবাসী চাল, গম ছাড়াও রেশন দোকান থেকে সস্তায় অনেক সামগ্রী কিনতে পারবেন। তাতে আদতে সাশ্রয়ই হবে।
কারা পাবেন এই পরিষেবা?
মাথায় রাখতে হবে, পশ্চিমবঙ্গে রেশন কার্ড বাতিল করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে যাঁদের এসআইআর-এ নাম বাদ গিয়েছে, যাঁরা স্থানান্তরিত, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের কার্ড এবার বাতিল করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কার্ড বাতিল হলে আর নতুন করে রেশন পাওয়া যাবে না।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে রেশন দেওয়ার ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গে ভীষণ কড়াকড়ি হয়েছে। আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি স্ক্যান করেই দেওয়া হচ্ছে রেশন।