২৭ অক্টোবর থেকে বদল আসছে রেলের টিকিটেভারতীয় রেলে ভ্রমণকারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে রেলওয়ে বোর্ড বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত ভ্রমণ বিমার সুবিধা শুধু অনলাইনে ই-টিকিট বুক করা যাত্রীদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল, যা এখন থেকে রেলওয়ে কাউন্টার (PRS Counter) থেকে সংরক্ষিত টিকিট কেনা সাধারণ যাত্রীরাও পাবেন।
ভারতীয় রেল ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সারা দেশে এবং সমস্ত প্রধান স্টেশনগুলিতে এই নতুন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে চলেছে। 'নিরাপদ ভ্রমণ, আনন্দদায়ক যাত্রা'-র অঙ্গীকার নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পটি চালু করেছে। এই উদ্যোগের অধীনে, সংশোধিত রিজার্ভেশন এবং বাতিলের আবেদনপত্র এখন প্রতিটি স্টেশনের প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম সেন্টারে পাওয়া যাচ্ছে।
ডিজিটাল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক, না নিলে ফর্মে 'NO' লিখুন
নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, কোনও যাত্রী যদি কাউন্টার থেকে সংরক্ষিত টিকিট কেনার সময় ভ্রমণ বিমা নিতে চান, তবে তাঁকে রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত একটি নামমাত্র ফি শুধুমাত্র ডিজিটাল মাধ্যমে (UPI/QR/Card) প্রদান করতে হবে। যাত্রীদের রিজার্ভেশন ফর্মে তাঁদের বর্তমান মোবাইল নম্বরও লিখতে হবে।
যদি কোনও যাত্রী বিমার সুবিধা নিতে না চান, তবে তাঁকে অবশ্যই রিজার্ভেশন ফর্মে স্পষ্টভাবে 'NO' অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। বিমার শর্তাবলী বর্তমানে IRCTC ই-টিকেট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলীর মতোই হবে।
১০ লক্ষ টাকার কভারেজ এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ
রেলওয়ের এই বিমা পলিসির আওতায়, কোনও দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে যাত্রীরা বিপুল আর্থিক সুরক্ষা পাবেন।
মৃত্যু বা সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে: বিমাভুক্ত যাত্রীর দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু বা সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে, বিমা কোম্পানি তাঁর নিকটাত্মীয়কে ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করবে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ: যাত্রাপথে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে, বিমা কোম্পানি হাসপাতালে ভর্তি ইত্যাদি বাবদ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ বহন করবে।
পথ পরিবর্তন হলেও কার্যকর: যদি কোনও কারণে ট্রেনের পথ পরিবর্তন করা হয় অথবা রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ট্রেনের পরিবর্তে সড়কপথে (বাস ইত্যাদি) গন্তব্যে পৌঁছে দেয় এবং সেই সময়ে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তাহলেও এই বিমা সম্পূর্ণরূপে কার্যকর থাকবে।
৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই সুবিধা পাবে না
রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায় ভ্রমণকারী ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিমার আওতায় আনা হবে না। রেলের এই নতুন উদ্যোগকে দূরপাল্লার যাত্রীরা স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে সাধারণ রেলযাত্রীদের স্বার্থে নেওয়া একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
দুর্ঘটনাজনিত বিমা কভার এবং প্রিমিয়াম
বিমা প্রকল্পের শর্তাবলী অনুসারে, রেল দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট অনাকাঙিক্ষত ঘটনার কারণে মৃত্যু হলে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুরক্ষা প্রদান করা হবে। স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রেও ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং স্থায়ী আংশিক অক্ষমতার জন্য ৭.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করা হবে। আঘাতের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি বাবদ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং মৃতদেহ পরিবহনের জন্য ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। এই বিমা সুরক্ষা সকল শ্রেণির সংরক্ষিত টিকিটের জন্য একই থাকবে। সকল কর সহ প্রতি যাত্রীর জন্য প্রিমিয়ামের হার ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।