পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে দিওয়ালির পর ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের উপর চাপ পড়তে পারে। কারণ অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দাম সরকার এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলির উপর বোঝা বাড়াবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজা বিজনেস টুডে টিভিকে বলেছেন, দিওয়ালির পর এবং বড়দিনের আগে দেশে জ্বালানির দামে পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, 'বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিস্থিতি ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ চিরকাল এই উদ্বেগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভারতেও পড়বে, যার ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়তে পারে।' তানেজা আরও বলেন, 'দিওয়ালির পরে এবং ক্রিসমাসের আগে পেট্পোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সরকার ও তেল কোম্পানিগুলির পক্ষে চিরকাল এই ক্রমবর্ধমান মূল্য ধরে রাখা কঠিন হবে।' তিনি আরও যোগ করেন, তেলের বর্তমান বাজারদর ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তেলের দাম ১৪০ ডলার
এই চাপ অপরিশোধিত তেলের ঘোষিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। ২৩ অক্টোবরের অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের একটি গবেষণা অনুসারে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ডেটেড ব্রেন্টের দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছেছে। তানেজা বলেছেন, 'মাল পরিবহণ, সামুদ্রিক বিমা এবং ট্যাঙ্কার পরিচালনার খরচ বাড়ার কারণে ভারতীয় সংশোধনাগারগুলিকে বিশ্ববাজারে উদ্ধৃত মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি দাম দিতে হতে পারে।'
তিনি বলেন, 'ভারতের ক্ষেত্রে শোধনাগার এবং অপরিশোধিত তেলের উৎসের উপর নির্ভর করে এই অতিরিক্ত খরচ প্রতি ব্যারেলে প্রায় ২৫-২৭ ডলার হতে পারে।'
আমদানি মূল্য এত দ্রুত কী ভাবে বাড়ছে?
২৬ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাসে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির গড় মূল্য আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০.৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০১২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ মাসিক গড়। সেপ্টেম্বরে ব্যারেল প্রতি ১১৬.৭৭ ডলার থেকে এই বৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বাড়ছে। যার ফলে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামুদ্রিক বিমার প্রিমিয়াম এবং মাল পরিবহণের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৬ অক্টোবর, ভারতীয় অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ১২৩.৭২ ডলারে পৌঁছেছিল।
এদিকে, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
এই মুদ্রাস্ফীতির বোঝা কে বহন করছে?
কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, সরকারি খাতের তেল সংস্থা এবং RBI যৌথ ভাবে এই তেল সঙ্কটের ধাক্কা সামলাচ্ছে। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক রিসার্চ ২৩ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে অনুমান করেছে, ব্যারে প্রতি অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য ১০০ ডলার ধরে এই সহায়তার পরিমাণ GDP-র ১.৭ শতাংশ হবে। যদি খুচরো জ্বালানির দাম একই থাকে তবে প্রতি ১০ ডলার বৃদ্ধি GDP-তে ২০ বেসিস পয়েন্ট যোগ করবে। এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির বিল গত বছরের একই সময়ের তুলনা ৪৬.৩ শতাংশ বেড়ে ৯০.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তানেজা সতর্ক করে বলেছেন, 'সরকার এবং তেল কোম্পানিগুলি উপভোক্তাদের আর্থিক অবস্থার ক্ষতি না করে তাদের চিরকাল সুরক্ষা দিতে পারবে না। দীর্ঘমেয়াদী সররাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতকে তার অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বৈচিত্র আনতে হবে এবং বিদেশি তেল ও গ্যাস সম্পদে বিনিয়োগ করতে হবে।'