গ্যালোপিং লোকালে চড়া আর ঘোড়ায় চড়া একই, জানেন?সারা দেশজুড়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ লোকাল ট্রেনে সফর করেন। দেশের যে যে শহরে লোকাল ট্রেন কার্যত লোকাল ট্রেনই লাইফ লাইন, তার মধ্যে অন্যতম কলকাতা ও মুম্বই। শুধুমাত্র শহর নয়, শহরতলি এমনকি জেলার মানুষের সঙ্গে মূল শহরকে জুড়তেও বাংলায় লোকাল ট্রেনের কোনও বিকল্প নেই। জেলা থেকে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষ কলকাতায় আসেন। তবে এত মানুষ ট্রেনে চড়লেও, অনেকেই জানেন না গ্যালোপিং লোকাল আসলে কী? কিন্তু প্রায় প্রতিদিন বহু মানুষ এই ট্রেনে চড়েন।
যদি বলা হয় গ্যালোপিং লোকালে চড়া আসলে ঘোড়ায় চড়ার শামিল, আপনি মানতে চাইবেন? অনেকেই হয়তো হেসে উড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু আক্ষরিক অর্থ ধরলে দাঁড়াচ্ছে অনেকটা সেই রকমই। কেন একথা বলা হচ্ছে বুঝে নেওয়া যাক।
গ্যালোপিং ট্রেন আদতে কী?
গ্যালোপিং ট্রেন যে আদতে কী, তা জানেন না এমন রেলযাত্রী খুব বেশি মিলবে না। এই ট্রেনগুলি মূলত কিছু স্টেশনে না দাঁড়িয়ে যাত্রীদের দ্রুত পরের স্টেশনে পৌঁছে দেয়। সেই কারণে কিছু এলাকায় একে ফাস্ট লোকালও বলে। মূলত, সাধারণত ট্রাফিক বা ভিড় সামাল দিতে এবং নির্দিষ্ট রুটের যাত্রা দ্রুত শেষ করতে এই ধরনের ট্রেন চালানো হয়।
গ্যালোপিং-এর সঙ্গে ঘোড়ার কী কানেকশন?
গ্যালোপিং লোকালের নামের অর্থ খুঁজতে বসলে দেখা যাচ্ছে, 'Gallop' অর্থ ঘোড়ার তীব্র বেগে ছোট ছোটা। ঘোড়া যেমন দ্রুত লাফিয়ে লাফিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত চলে যায়। এখানে সেই ধারণাকে মাথায় রেখেই এই লোকাল ট্রেনগুলি কিছু স্টেশন লাফিয়ে লাফিয়ে পার করে চলে যায়, স্টপেজ দেয় না। তাই প্রথমেই বলা হল গ্যালোপিং লোকালে চড়া আদতে যেন কিছুটা ঘোড়ায় চড়ার শামিল।
পূর্ব রেলের হাওড়া ও শিয়ালদা ডিভিশনে প্রতিদিনই বেশ কয়েকটি গ্যালোপিং লোকাল চালানো হয়। যাত্রীদের আরও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতেই এই ট্রেন চালায় রেল।