অন্যতম জনপ্রিয় দুই মডেল হল Bajaj CT 110 এবং Honda Shine 100। ভারতে কম বাজেটের বাইকের বাজারে এখনও ১০০-১১০ সিসি সেগমেন্টেরই জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বিশেষ করে যাঁরা প্রথম বাইক কিনতে চান বা রোজকার অফিস যাতায়াতের জন্য কম খরচে নির্ভরযোগ্য মোটরসাইকেল খুঁজছেন, তাঁদের কাছে এই সেগমেন্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই মুহূর্তে সেই তালিকায় অন্যতম জনপ্রিয় দুই মডেল হল Bajaj CT 110 এবং Honda Shine 100। কিন্তু এন্ট্রি লেভেলের বাইক হিসাবে কোনটি বেশি ভাল?
দুই বাইকেরই মূল USP একটাই। কম খরচে ভাল মাইলেজ, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং আরামদায়ক রাইডিং। তবে ফিচার, ইঞ্জিন এবং ব্যবহারের দিক থেকে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
Bajaj CT 110-এ ১১৫ সিসির ইঞ্জিন রয়েছে। অন্য দিকে Honda Shine 100-এ রয়েছে ৯৮.৯৮ সিসির ইঞ্জিন। ফলে পাওয়ারের দিক থেকে CT 110 কিছুটা এগিয়ে। গ্রামের রাস্তা বা খানাখন্দে ভরা এলাকায় চলার ক্ষেত্রে এই বাইক তুলনামূলকভাবে বেটার।
অন্য দিকে Honda Shine 100 মূলত শহরের রাস্তায় ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেই তৈরি। বাইকটি হালকা, চালাতে সহজ। সঙ্গে Honda-র ইঞ্জিন রিফাইনমেন্ট তো আছেই। রোজকার অফিস যাতায়াত বা ট্র্যাফিকের ভিড়ভাট্টার মধ্যে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে Shine 100 একটু হলেও বেশি স্মুথ মনে হতে পারে।
মাইলেজের দিক থেকেও দুই বাইকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। Honda Shine 100 এ প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার প্রতি লিটার পর্যন্ত মাইলেজ। অন্য দিকে Bajaj CT 110-ও প্রায় একই রেঞ্জে থাকে। তবে রাইডিং স্টাইল এবং রাস্তার অবস্থার উপর নির্ভর করে মাইলেজ কিছুটা বদলাতে পারে।
কমফোর্টের দিক থেকে Bajaj CT 110 কিছুটা আলাদা। এর লম্বা সিট এবং তুলনামূলক বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স গ্রামীণ এলাকার জন্য বেশ ভাল। এক কথায় ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ কমিউটার বাইক।
অন্য দিকে Honda Shine 100-এর বড় প্লাস পয়েন্ট হল এর ব্র্যান্ড ভ্যালু। স্মুদ ইঞ্জিন আর কম ভাইব্রেশন। দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের স্মুথনেস এবং সার্ভিস নেটওয়ার্কের জন্য বহু ক্রেতাই Honda-কেই বেশি ভরসা করেন।
তবে কোন বাইকটি বেশি ভাল, তা অনেকটাই ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের উপর নির্ভর করছে। যদি কম দামে শক্তিশালী, খারাপ রাস্তায় চালানোর উপযোগী বাইক চান, তা হলে Bajaj CT 110 ভাল অপশন হতে পারে। কিন্তু শহরের রাস্তায় ব্যবহার এবং স্মুথ, হালকা এবং নির্ভরযোগ্য বাইক চাইলে Honda Shine 100 এগিয়ে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম বাইক হিসাবে দুই মডেলই ভাল। তবে কেনার আগে নিজের ব্যবহার, রাস্তার ধরন এবং সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিন।