আগামী বছর এই সেক্টরগুলিতে সবচেয়ে বেশি বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনাAon Salary Survey অনুসারে, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ২০২৭ সালের মধ্যে গড়ে ৯.১% বেতন বৃদ্ধি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে । NBFC, এনার্জি এবং রিয়েল এস্টেট খাতে সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে, AI দক্ষতার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে কর্মী ছাঁটাইয়ের হারও বেড়েছে।
যারা কর্মরত আছেন, তাদের জন্য আগামী বছরের বেতন বৃদ্ধির চিত্রটি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ২০২৭ সালে কোম্পানিগুলো গড়ে ৯.১% বেতন বাড়াতে পারে। এই বৃদ্ধি ২০২৬ সালে রেকর্ড করা ৯% বৃদ্ধির প্রায় সমান। তবে, সব খাতের কর্মচারীদের একই রকম বেতন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায় না। Aon-এর Annual Salary Increase and Turnover Survey 2026-27 অনুসারে, কোম্পানিগুলো খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মী ধরে রাখার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। এই সমীক্ষাটি ৪৫টি শিল্পের ১,২০০-র বেশি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
কর্মীদের চাকরি ছাড়ার হার বেড়েছে
বেতন বৃদ্ধির মাঝেও, কোম্পানিগুলো কর্মী ধরে রাখতে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে কর্মীদের চাকরি ছাড়ার হার ২০২৪ সালের ১৭.১% ছিল। ২০২৫ সালে ১৬.২% থেকে ২০২৬ সালে ১৮% হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের হারও বেড়েছে, যা ২০২৫ সালের ৩.৪% থেকে ২০২৬ সালে ৪% হবে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে কোম্পানিগুলো কর্মী নিয়োগ, ধরে রাখা এবং ওয়ার্কফোর্সের খরচ ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আরও সতর্ক হচ্ছে।
NBFC-এনার্জি সেক্টরে সবেচেয় বেশি বেতন বৃদ্ধি
আগামী বছর বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্স কোম্পানিগুলো (NBFC) অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা
করা হচ্ছে। Aon-এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, এই খাতে ১০.১% বেতন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর পরে, এনার্জি খাতে ৯.৯% এবং রিয়েল এস্টেট-ইনফাস্ট্রাকচার খাতে ৯.৮% বেতন বৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফান্ডস অ্যান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এবং লাইফ সায়েন্সেস খাতে ৯.৬% বেতন বৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCCs)-গুলোতে বেতন ৯.৪% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অটোমোবাইল ও যানবাহন উৎপাদন খাতে ৯.৫%, ইঞ্জিনিয়ারিং ও উৎপাদন খাতে ৯.৩%, ফাস্ট-মুভিং কনজিউমার গুডস (FMCG) খাতে ৯.১%, ব্যাঙ্কিং খাতে ৮.৫% এবং কেমিক্যালস খাতে ৮% বেতন বৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, টেকনোলজি কনসাল্টিং ও সার্ভিস খাতে সর্বনিম্ন ৬.৬% বেতন বৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ২০২৬ সালের বেতনের সমান।
বেতন বৃদ্ধির পর প্রকৃত আয় কতটা বাড়বে?
বেতন বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে একজন কর্মচারীর ক্রয়ক্ষমতাও একই পরিমাণে বাড়বে। এটি নির্ধারণ করার জন্য, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। Aon-এর সমীক্ষায়, মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করে ২০২৬ সালে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি ৪.৩% হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। ২০২৭ সালের জন্য, এটি ৫.১% হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এর মানে হলো, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনা করার পর, কর্মচারীদের আয়ের বৃদ্ধি তাদের মোট বেতন বৃদ্ধির চেয়ে কম হবে। সার্ভেতে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলোর ৬০% আশা করছে যে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে তাদের রাজস্ব ৫%-এর বেশি বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, ৩৭% সংস্থা দুই অঙ্কের রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়াও, ৬২% সংস্থা ৯%-এর বেশি বেতন বৃদ্ধির জন্য বাজেট করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) দক্ষ ব্যক্তিদের চাহিদা বেড়েছে
কর্মচারী বেতন এবং নিয়োগের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমীক্ষা অনুসারে, AI প্রোডাক্টিভিটি টুল ব্যবহারকারী কোম্পানির অনুপাত ২০২৫ সালে ৪৬.১% থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫৬% হয়েছে। প্রায় ৬০% কোম্পানি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিচ্ছে। এদিকে, ২০২৫ সালের তুলনায় AI, মেশিন লার্নিং এবং ডেটা সায়েন্স সম্পর্কিত পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ট্যালেন্ট প্রিমিয়াম প্রায় ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে কোম্পানিগুলো এখন কর্মী সংখ্যা এবং বেতন বাজেটের পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতার উপরও বিনিয়োগ করছে। AI-সম্পর্কিত টুলগুলির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষা প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের গুরুত্ব বাড়ছে।
মজুরি বিধি কোম্পানির খরচ বাড়াচ্ছে
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি, কোম্পানিগুলো মজুরি বিধির সঙ্গে সম্পর্কিত খরচগুলোও খতিয়ে দেখছে। Aon-এর মতে, ৬৫.৪% কোম্পানি ইতিমধ্যেই এই বিধি মেনে চলছে, এবং ২০.৯% সংস্থার আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আশা করছে। সমীক্ষায়, ৪২.৮% কোম্পানি অনুমান করেছে যে মজুরি বিধির কারণে তাদের বেতন বাবদ খরচ অন্তত ১% বাড়তে পারে। এটি কোম্পানিগুলোর মোট কর্মচারী ব্যয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৭ সাল নাগাদ ভারতীয় কোম্পানিগুলোতে গড় বেতন ৯.১% বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে, কর্মচারীদের জন্য প্রকৃত পার্থক্য নির্ভর করবে তারা কোন খাতে কাজ করেন, তাদের দক্ষতার চাহিদা কেমন এবং মুদ্রাস্ফীতির পর তাদের আয় কতটা অবশিষ্ট থাকে তার উপর।