চিকিৎসার জন্য এই রোগীরা ফ্রিতে ট্রাভেল করতে পারবেন ট্রেনে, আর যা বলল সুপ্রিম কোর্ট

হাসপাতালে এক থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেলেও যাতায়াতের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়াতেই অনেকটা সময় চলে যায়। চিকিৎসায় দেরি হলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও প্রভাবিত হতে পারে।

Advertisement
চিকিৎসার জন্য এই রোগীরা ফ্রিতে ট্রাভেল করতে পারবেন ট্রেনে, আর যা বলল  সুপ্রিম কোর্টবিনামূল্যে কারা যেতে পারবেন?
হাইলাইটস
  • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে এক অ্যাসিড হামলার শিকার মহিলার উদাহরণ তুলে ধরা হয়
  • হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা ওই মহিলাকে অস্ত্রোপচারের জন্য তামিলনাড়ু যেতে হয়েছিল

অ্যাসিড হামলার শিকারদের চিকিৎসার জন্য ট্রেনে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় সরকার, রেল এবং সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রককে নতুন নীতি তৈরির জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বর্তমান ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করে এমন নীতি তৈরি করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত, যাতে অ্যাসিড হামলার শিকারদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন শহর ও হাসপাতালে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে না হয়।

শুনানির সময় রেলের তরফে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সুপ্রিম কোর্টকে জানান, বর্তমান নীতি অনুযায়ী অ্যাসিড হামলার শিকাররা তাঁদের বাসস্থান থেকে চিকিৎসার জায়গা পর্যন্ত বিনামূল্যে ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা পান।

তবে আবেদনকারী এনজিওর হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী জানান, এই অনুমতি শুধুমাত্র একটি গন্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে কোনও অ্যাসিড হামলার শিকারকে যদি চিকিৎসার জন্য একাধিক শহরে যেতে হয়, সেক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থা তাঁর জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আবেদনকারীর পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে এক অ্যাসিড হামলার শিকার মহিলার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা ওই মহিলাকে অস্ত্রোপচারের জন্য তামিলনাড়ু যেতে হয়েছিল। এরপর স্কিন গ্রাফটের জন্য তাঁকে মুম্বই এবং আদালতের শুনানিতে যোগ দিতে দিল্লি যেতে হয়। কিন্তু বর্তমান যাতায়াতের অনুমতিতে শুধুমাত্র হিমাচল প্রদেশ থেকে তামিলনাড়ু যাওয়ার অনুমতি ছিল।

ফলে প্রতিটি হাসপাতালের জন্য আলাদা চিঠি এবং প্রতিটি শহরে যাওয়ার জন্য পৃথক অনুমতি নিতে হয়েছিল ওই মহিলাকে। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। অথচ অ্যাসিড হামলার শিকারদের চিকিৎসা অনেক সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সময়নির্ভর হয়।

হাসপাতালে এক থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেলেও যাতায়াতের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়াতেই অনেকটা সময় চলে যায়। চিকিৎসায় দেরি হলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও প্রভাবিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলকে কেন্দ্রীয় সরকার, রেল এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধিত নীতি তৈরি করতে হবে।

Advertisement

প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সরকার কী কী পরিবর্তন করতে পারে, সেটিই এবার দেখা হবে। নতুন নীতি তৈরির জন্য কেন্দ্রকে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

POST A COMMENT
Advertisement