Pakistan vs Sri Lanka: লর্ডসে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের রেকর্ড ছুঁল পাকিস্তান, ৩২৬ রান তাড়া করে জয় শাহিনদের

অসাধারণ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে একদিনের ত্রিদেশীয় সিরিজের খেতাব জিতে নিল পাকিস্তান। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল তারা। একইসঙ্গে লর্ডসে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলল।

Advertisement
লর্ডসে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের রেকর্ড ছুঁল পাকিস্তান, ৩২৬ রান তাড়া করে জয় শাহিনদেরত্রিদেশীয় সিরিজ জয় পাকিস্তানের
হাইলাইটস
  • শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে একদিনের ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় পাকিস্তানের
  • ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল
  • লর্ডসে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলল

অসাধারণ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে একদিনের ত্রিদেশীয় সিরিজের খেতাব জিতে নিল পাকিস্তান। শনিবার, ৩১ অক্টোবর লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে ফাইনালে ৩ উইকেটে জয় পেল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে তারা। দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ফখর জামানের দুরন্ত শতরান। পাশাপাশি সাদ বেগ এবং আরাফাত মিনহাসের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস পাকিস্তানকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

এই জয়ের ফলে একদিনের ক্রিকেটের কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডে ভারতের সমানে সমানে চলে এল পাকিস্তান। ২০০২ সালে লর্ডসে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল ভারত। সেই ম্যাচে যুবরাজ সিং এবং মহম্মদ কাইফের অসাধারণ ব্যাটিং ভারতকে ২ উইকেটে জয় এনে দিয়েছিল। ২৪ বছর পর একই কীর্তি গড়ল পাকিস্তান।

পাকিস্তানের কাছে এই জয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০০৮ সালে বাংলাদেশের মাটিতে কিটপ্লাই কাপ জয়ের পর আর কোনও একদিনের ত্রিদেশীয় সিরিজের খেতাব জিততে পারেনি তারা। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই দুরন্ত জয়ে। 

একদিনের ক্রিকেটের ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়
একদিনের ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের তালিকায় রয়েছে—
> ভারত বনাম ইংল্যান্ড – ৩২৬ রান (২০০২, লর্ডস)
> পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা – ৩২৬ রান (২০২৬, লাহোর)
> ভারত বনাম পাকিস্তান – ৩১৫ রান (১৯৯৮, ঢাকা)
> ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান – ২৮৫ রান (১৯৯৩, শারজা)
> নিউজিল্যান্ড বনাম ভারত – ২৭৭ রান (২০০৫, হারারে)

কামিন্দু ও রথনায়েকের ব্যাটে বড় রান শ্রীলঙ্কার
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। দলের হয়ে দুরন্ত শতরান করেন কামিন্দু মেন্ডিস। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম শতরান করলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ১২৮ বলে ১৩১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও দুটি ছক্কা।

Advertisement

শুরুতে অবিশকা ফার্নান্ডোর সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেন কামিন্দু। প্রথম উইকেটে দু'জনে যোগ করেন ৮৭ রান। ফার্নান্ডো করেন ৩৮ রান। এরপর পাভন রথনায়েকের সঙ্গে কামিন্দুর জুটি শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে আরও শক্তিশালী করে। তৃতীয় উইকেটে দু'জনে যোগ করেন ১৪৬ রান। রথনায়েক ৬৫ বলে ৭৭ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন।

শ্রীলঙ্কার রান আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। পরপর কামিন্দু মেন্ডিস ও দাসুন শনাকাকে আউট করেন তিনি। হ্যারিস রউফ এবং নাসিম শাহ ২টি করে উইকেট নেন। শেষ ১০ ওভারে ছয় উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৩২৫ রানে আটকে দেয় পাকিস্তানের বোলাররা।

ফখরের শতরান, মিনহাসের ঝোড়ো ইনিংসে জয় পাকিস্তানের
৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। মাত্র ৫ রান করে আউট হন মাজ সাদাকাত। এরপর কোনও রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন বাবর আজম। মাত্র ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় আয়োজক দল।

সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরেন ফখর জামান ও সাদ বেগ। তৃতীয় উইকেটে দু'জনে যোগ করেন ১৪৯ রান। সাদ বেগ ৭৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালান ফখর। ৯৯ বলে ১২৭ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ছয়টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত দিলশান মধুশঙ্কার বলে আউট হন ফখর।

ফখর ও সলমন আলি আগা আউট হওয়ার পর ফের কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেই পরিস্থিতিতে দলের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন আরাফাত মিনহাস ও হাসান নওয়াজ। দু'জনে মিলে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন মিনহাস। অন্যদিকে, অপর প্রান্তে ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করেন হাসান নওয়াজ।

জয়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে আউট হন মিনহাস। এরপর গোল্ডেন ডাক করে ফেরেন ফাহিম আশরাফ। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। আর দেরি করেননি অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। মধুশঙ্কার বলে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ৯ বল বাকি থাকতেই ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ পকেটে পুড়ে নেয় তারা। 

 

POST A COMMENT
Advertisement