ফাইনাল হারতেই চোখে জল মেসির। ছবি- রয়টার্স।অতিরিক্ত সময় শেষ। রেফারির বাঁশি বাজতেই মাটিতে বসে পড়লেন। অশ্রুসিক্ত চোখ। ক্যামেরা ধরল ক্লোজ-আপে। হতাশা। যন্ত্রণা। হয়তো চ্যাম্পিয়নরা আবেগী হন। হয়তো এটাই ছিল 'দ্য লাস্ট শো'! পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মেডেল নিতে উঠলেন। নামলেন। ক্যামেরা আবার ধরল তাঁকে। ধ্বস্ত চেহারা। বলে দিল, বিশ্বকাপটা চেয়েছিলেন। পেলেন না।
লিওনেল মেসি যেন ওডিসির ট্র্যাজিক নায়ক 'ওডিসিয়াস'। গতবার বিশ্বকাপ জয়। ট্রয়ের যুদ্ধ জিতেছিলেন ওডিসিয়াসও। এবার ওডিসিয়াসের মতোই সঙ্গ দেওয়ার সঙ্গী কেউ নেই! মাঠজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্প্যানিশবাহিনী। বল পাচ্ছেন না মেসি। তাঁকে বল দেওয়ার কেউ নেই!মহাকাব্যিক নায়করা হয়তো এমনই হন! ভাগ্যদেবতা চিরসুখ দেন না। মহাকাব্যের শেষে থেকে যায় নায়কের অপূর্ণতার গাথা।
স্পেনের ম্যানেজার লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচের আগে মেসিকে নিয়ে তাঁর গল্প শুনিয়েছিলেন। যা অনেকটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা কোনও মানুষের সেই পুরনো ট্রমার কথা মনে করার মতো। সালটা ২০০৪। তখন ছোট্ট মেসির প্রতিভা নিয়ে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। ফুয়েন্তে বললেন,'স্প্যানিশ কাপের একট ম্যাচ খেলতে বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম। মেসি নামের এক ছেলের সম্পর্কে দারুণ সব কথা শুনেছিলাম। ম্যাচ শুরু থেকেই তাঁকে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ের মধ্যে রেখেছিলাম। খেলার ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ০-০ ছিল। এরপর যে ফুটবলার, মেসিকে মার্ক করে রেখেছিল, সে একটা কার্ড দেখায় মাঠ থেকে তুলে নিই। আর তারপরের ১৫ মিনিটের মধ্যে ও একাই চার-চারটে গোল করে দিল!' এবার আর ফুয়েন্তে সেই ভুল করলেন না। খেলার সুযোগই পেলেন না মেসি।
২০০৪ সালের সেই মেসি আর নেই। এখন তিনি মরুপ্রান্তর চষে ফেলা ক্নান্ত বেদুইন। এই পথ চলায় তাঁর ঝুলিতে কী না নেই! একটা বিশ্বকাপ, দুটো কোপা আমেরিকা, ৪টে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর অলিম্পিক গোল্ড মেডেল। আরও জুড়তে চাইলে, ১০টা লা লিগা, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত মণিহারও চমকে দেওয়ার মতো! আটবার ব্যালন ডি'অর।
ভাগ্যিস একটা মেসি আছে। নইলে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা কেন টিভির পর্দায় চোখ রাখবেন? ভোর সাড়ে চারটেয় এই প্রতিবেদকও লিখে চলেছেন মেসি-কাহিনি। এ শুধু কাহিনি নয়, এ হল মেসি-ম্যানিয়া। আসলে মেসিদের বিদায় ঘটে না। তিনি তো অমর। ফুটবলের ইতিহাস বলবে, আমাদের একটা মেসি ছিল। এ হৃদয় তাই দফতর বদলাচ্ছে না!