জিলেট স্টেডিয়াম২০২৬ সালের FIFA World Cup ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার পারদ চড়তে শুরু করলেও, সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের পকেটে বড়সড় টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকার বোস্টন শহরে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের যাতায়াতের জন্য যে বিপুল পরিমাণ খরচ করতে হবে, তা নিয়ে ইতিমধেই বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য আয়োজক কমিটি ‘বোস্টন স্টেডিয়াম এক্সপ্রেস’ নামে যে বিশেষ বাস পরিষেবা চালু করেছে, তার রাউন্ড ট্রিপের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮,৮৪০.৯০ টাকা ভারতীয় মুদ্রায়। অর্থাত্ প্রায় ১০ হাজার টাকা। যাতায়াতের এই আকাশছোঁয়া খরচ মধ্যবিত্ত ফুটবল সমর্থকদের জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১০০টিরও বেশি নামী হোটেলের সঙ্গে এই বাস পরিষেবাকে সরাসরি যুক্ত
বোস্টন ২৬ হোস্ট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘ইয়াঙ্কি লাইন’-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই লাক্সারি বাস পরিষেবাটি পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি ম্যাচের দিন প্রায় ১০,০০০ দর্শককে এই পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। গ্রেটার বোস্টন এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রায় ১০০টিরও বেশি নামী হোটেলের সঙ্গে এই বাস পরিষেবাকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, সমর্থকরা তাদের হোটেলের দোরগোড়া থেকেই বাসে উঠে সরাসরি স্টেডিয়ামে পৌঁছতে পারবেন। আয়োজকদের দাবি, খেলা শুরুর তিন ঘণ্টা আগে থেকে বাসগুলি যাত্রা শুরু করবে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার আধ ঘণ্টা পর থেকে ফিরতি যাত্রা শুরু হবে।
বাসে উঠতেই খরচ ১০ হাজার টাকা
হোস্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট মাইক লোয়ন্ড এই পরিষেবাকে ‘নির্ভরযোগ্য এবং সুবিধাজনক’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, জিলেট স্টেডিয়াম শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় দর্শকদের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা। তবে সুবিধার আড়ালে খরচের অঙ্কটা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। ভারতে যেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের খরচ কয়েকশো টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে আমেরিকার মাটিতে একটি বাসে যাওয়ার জন্য প্রায় ৯ হাজার টাকা খরচ করা অনেকের কাছেই বিলাসিতার মতো মনে হচ্ছে। কারণ, এমনিতেই ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। তার উপর বাস পরিষেবাও এত রেট।
টিকিটগুলি আগেভাগেই বুক করে রাখতে হবে
শুধু ভাড়া নয়, এই পরিষেবার নিয়মকানুনও বেশ কড়া। যারা এই বাসের টিকিট কাটবেন, তাঁদের বাসে ওঠার সময় ওই দিনের ম্যাচের একটি বৈধ টিকিট দেখাতে হবে। অর্থাৎ, খেলা দেখার টিকিট না থাকলে কেউ এই বাসে উঠতে পারবেন না। এর পাশাপাশি টিকিটগুলি আগেভাগেই বুক করে রাখতে হবে, কারণ এর আসন সংখ্যা সীমিত।
২০২৬ বিশ্বকাপটি একটি ঐতিহাসিক টুর্নামেন্ট হতে চলেছে, কারণ এবারই প্রথম ৪৮টি দল এই আসরে অংশ নেবে। ফিফা বরাবরই দাবি করে এসেছে যে, এই বিশ্বকাপটি হবে সবার জন্য সহজলভ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। টিকিটের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পরিবহণের এই বিপুল খরচ, সব মিলিয়ে সাধারণ ফুটবল ভক্তদের কাছে এই টুর্নামেন্ট এখন আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে। এই বাসের টিকিটের আগে বোস্টনে পার্কিংয়ের খরচ এবং ট্রেনের টিকিটের চড়া দাম নিয়েও সমালোচনা হয়।
ফুটবলকে বলা হয় ‘গরিবের খেলা’, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে অনেক ক্রীড়া বিশেষজ্ঞই মনে করছেন যে, এটি ধীরে ধীরে ধনকুবেরদের উৎসবে পরিণত হয়ে গিয়েছে। বোস্টনের এই বাস পরিষেবার ভাড়া ফুটবল বিশ্বের এই ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণের একটি বড় নিদর্শন।