
লাল-হলুদ দল তাদের শেষ লিগ ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। চাপের মুখে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের স্ক্রিপ্ট লিখে লিগ জয় করল তাঁরা। ম্যাচ শেষে হাজার হাজার ইস্টবেঙ্গল সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়ে।

এ মরসুমের আইএসএল শিরোপার লড়াই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তীব্র ছিল। ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট উভয়েই ২৩ পয়েন্ট নিয়ে সমান জায়গায় ছিল।

তবে, ইস্টবেঙ্গলের গোল পার্থক্য ছিল +১৮, যেখানে মোহনবাগানের ছিল +১৩। এই পার্থক্যটিই শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়ায়। মুম্বই সিটি এফসি, পঞ্জাব এফসি এবং জামশেদপুর এফসিও শিরোপার দৌড়ে ছিল, কিন্তু শেষ দিনে ইস্টবেঙ্গল জয়ী হয়।

এ দিকে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ২-১ গোলে পরাজিত করলেও মোহনবাগান শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়। মুম্বই এফসি, পঞ্জাব এফসিকে ২-০ গোলে পরাজিত করে, অন্যদিকে ওড়িশা এফসি এবং জামশেদপুর এফসি গোলশূন্য ড্র করে।

ইস্টবেঙ্গলের শুরুটা ভালো হয়নি। ১৫ মিনিটে ইন্টার কাশী এগিয়ে যায়। আলফ্রেডের দুর্দান্ত ফার্স্ট-টাইম ফিনিশ ইস্টবেঙ্গলকে চাপে ফেলে দেয়। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল সমতা ফেরানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। তারকা স্ট্রাইকার ইউসুফ এজাজারি ৫০ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান। স্পেনে জন্মগ্রহণকারী এবং মরক্কোর যুব দলের হয়ে খেলা ৩৩ বছর বয়সী এজাজারি ম্যাচের শুরুতে হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলোর ক্ষতিপূরণ করেন এক দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে।

এজ্জেজারি এই মরসুমে ১৩ ম্যাচে ১১ গোল করে গোল্ডেন বুটও জিতেছেন। এরপর, ৭৩ মিনিটে মহম্মদ রশিদ ইস্টবেঙ্গলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন। রশিদের গোলটি স্টেডিয়ামের তেড়ে থাকা সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।

ইস্টবেঙ্গল এর আগে ২০০৩-০৪ মরসুমে তৎকালীন ন্যাশনাল ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছিল। সে সময় দলটির কোচ ছিলেন প্রয়াত সুভাষ ভৌমিক। এখন, ২২ বছর পর, ক্লাবটি আবারও দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ লিগ ট্রফিটি জিতেছে।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে তিনটের সময় ক্লাবের মাঠেই সেলিব্রেশনের আয়োজন করেছে ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ ক্লাবের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে সকলকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা ক্লাবের দিকে যেতে শুরু করে দিয়েছেন। ধীরে ধীরে সেজে উঠছে ক্লাব প্রাঙ্গন। (সমস্ত ছবি- পিটিআই সূত্রে)