Team India: চার মাস আগেই চ্যাম্পিয়ন, এখন কী হল? টিম ইন্ডিয়ার T20 দল নিয়ে প্রশ্ন

চার মাস আগেই টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে ভারতীয় দল। তবে এরপরেই হঠাৎ যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। আয়ারল্যান্ডের কাছে ০-২ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর, ইংল্যান্ড সফরে এসে দলটির দুর্বলতাগুলো এখন দেখা যাচ্ছে। নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে ইংলিশ দলের কাছে ১২৫ রানের লজ্জাজনক হার, টিম ইন্ডিয়ার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

Advertisement
চার মাস আগেই চ্যাম্পিয়ন, এখন কী হল? টিম ইন্ডিয়ার T20 দল নিয়ে প্রশ্নশ্রেয়াস আইয়ার, টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক

চার মাস আগেই টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে ভারতীয় দল। তবে এরপরেই হঠাৎ যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। আয়ারল্যান্ডের কাছে ০-২ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর, ইংল্যান্ড সফরে এসে দলটির দুর্বলতাগুলো এখন দেখা যাচ্ছে। নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে ইংলিশ দলের কাছে ১২৫ রানের লজ্জাজনক হার, টিম ইন্ডিয়ার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার নটিংহ্যামে ব্যাটারদের পারফরম্যান্সকে 'অত্যন্ত বাজে' বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, প্রধান কোঢ গৌতম গম্ভীর দলে করা বড় পরিবর্তনগুলোকে একটি 'রিসেট' এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার পারফরম্যান্স এই প্রশ্নটি উত্থাপন করছে: এটি কি সত্যিই পরিবর্তনের সময়, নাকি ভারতীয় টি টোয়েন্টি দল তাঁর পুরোনো পরিচয় হারাচ্ছে?

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ভারতীয় দলে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সূর্যকুমার যাদবের পরিবর্তে শ্রেয়াস আইয়ার অধিনায়ক হয়েছেন, অন্যদিকে হার্দিক পান্ডিয়া ও জসপ্রিত বুমরার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা বর্তমান দলে নেই। গৌতম গম্ভীর একটি নতুন দল গড়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ধারাবাহিক পরাজয়ের জন্য শুধু পরিবর্তনকেই দায়ী করা যায় না। ভারতীয় দল সেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চায় যা তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করেছিল। তবে, বর্তমান দলটিতে কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার মতো অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাব রয়েছে।

অধিনায়কের ব্যাটও যেন নিষ্প্রভ
শ্রেয়াস আইয়ারের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের শুরুটা সহজ হয়নি। তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছিল অনিয়মিত। তার শেষ পাঁচটি ইনিংসে স্কোর ছিল যথাক্রমে ৩, ১০, ৬৮, ৩৭ এবং৫। এ ছাড়াও, তার অধিনায়কত্বের কিছু সিদ্ধান্তও প্রশ্ন তুলেছে। নটিংহ্যাম টি-টোয়েন্টিতে শিবম দুবের আগে হর্ষিত রানাকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি ছিল আশ্চর্যজনক। এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় যে, টিম ইন্ডিয়া একটি নির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে মাঠে নামার পরিবর্তে কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রমাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিল। ব্যাটিং অর্ডারে এই ক্রমাগত পরিবর্তন খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

Advertisement

বৈভব ও সঞ্জুকে নিয়ে দ্বন্দ্ব
সঞ্জু স্যামসন এবং বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে টিম ইন্ডিয়ার সামনে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে। ৫, ০ এবং ১ রান করার পর স্যামসনকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার জায়গায় ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়া হয়। তবে, বৈভব এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪ এবং ১৩ রানের ইনিংস খেলতে পেরেছেন। বৈভবের প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি আইপিএল ২০২৬-এ তার বিস্ফোরক ব্যাটিং দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিলেন। তবে, আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের মতো কঠিন বিদেশী পরিবেশে তাকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন হলো, টিম ম্যানেজমেন্ট কি একজন তরুণ খেলোয়াড়কে প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় না দিয়েই সরাসরি কঠিন পরিস্থিতিতে নামিয়ে দিয়েছে? এ দিকে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় সঞ্জুকে মাত্র তিনটি বাজে ইনিংসের পর বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক চলছে।

বোলিংয়ে ধারের অভাব 
শুধু ব্যাটিংই নয়, টিম ইন্ডিয়ার বোলিংও প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। জসপ্রিত বুমরাহ এবং হার্দিক পান্ডিয়ার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্যে স্পষ্টতই প্রভাব ফেলছে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রবি বিষ্ণোই ৬০ রান দিয়েছেন এবং তিনটি ব্যাক-ফুট নো-বলও করেছেন। তার এই পারফরম্যান্স টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান সমস্যার একটি চিত্র তুলে ধরে। তরুণ বোলারদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে হচ্ছে।

যে ভারতীয় দলটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল, তারা শুধু তাদের আগ্রাসীব্যাটিংয়ের কারণেই সফল হয়নি। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খেলার ধরন মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। ব্যাটসম্যানরা প্রয়োজনে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতেন এবং কঠিন সময়ে ইনিংসকে ধরে রাখার দায়িত্বও নিতেন। বর্তমান ভারতীয় দল সেই আগ্রাসী কৌশলটি অনুকরণ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ধৈর্য এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার অভাব রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

ভবিষ্যতের জন্য টিম ইন্ডিয়াকে প্রস্তুত করার গৌতম গম্ভীরের সিদ্ধান্তকে ভুল বলা যায় না। তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং একটি নতুন দল গঠন করা যেকোনো দলের জন্যই অপরিহার্য। তবে, একটি সফল পরিবর্তনের জন্য খেলোয়াড়দের ভূমিকা, দলের কৌশল এবং খেলোয়াড় নির্বাচন বিষয়ে স্বচ্ছতাও সমানভাবে জরুরি।

POST A COMMENT
Advertisement