বিরাট কোহলি (ছবি: পিটিআই)৩৭ বছর বয়সেও মাঠে চিতার মতো দৌড়ান বিরাট কোহলি। ৫০ ওভার ফিল্ডিং করার পর ব্যাট করতে নেমেও একটুও ক্লান্তি দেখা যায় না তাঁর চোখে-মুখে। বরং দ্রুত গতিতে দৌড়ে শর্টরান নিতে ওস্তাদ চেজ মাস্টার। সেই সঙ্গে ছক্কা, চার মারার কাজেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। এখন প্রশ্ন হল, ঠিক কীভাবে নিজের ফিটনেস বজায় রাখেন কোহলি? চাপের সময় মাথা ঠান্ডা রাখেনই বা কীভাবে? আর সম্প্রতি শারীরিক ফিটনেস এবং ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিরাট কোহলি। তিনি জানান, শারীরিকভাবে ফিট থাকতে তিনি পছন্দ করেন। এর মাধ্যমেই তিনি আরও ভালভাবে ম্যাচের পরিস্থিতি কল্পনা করতে। এমনকী এটাই তাঁকে পরিষ্কার মাথায় নিজের প্ল্যানিং বাস্তবায়নে সাহায্য করে।
কোহলি বলেন, 'আমার মনে হয়, মুক্ত মন নিয়ে খেলতে গেলে ফিট শরীর দরকার। আমি শারীরিকভাবে ফিট থাকি। তার ফলেই নিজের মতো করে ম্যাচটাকে কল্পনা করতে। খেলতে পারি।'
কোহলির এই বক্তব্য থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে, শারীরিক ফিটনেস কি সত্যিই আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং চাপের সময়ে শরীরের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে?
শারীরিক অ্যাক্টিভিটি নিয়ে গবেষণা করা Centre for Chronic Disease Control-এর Deputy Director এবং গবেষক ডা. শিফালিকা গোয়েঙ্কার মতে, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপর অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা রয়েছে। সেখান থেকেই বিষয়টা একটু আঁচ করা যায়।
কীভাবে শরীরচর্চা মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে?
বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপর করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতার উন্নতি হয়। শৈশব ও কৈশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়সকালে এর উপকারিতা দেখা যায়।
ডা. গোয়েঙ্কা বলেন, 'বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অ্যাক্টিভিটির অনেক উপকার রয়েছে।'
এখানে শুধু দৌড়ানো বা লাফানোর মতো সাধারণ ব্যায়ামের কথা বলা হচ্ছে না। এমন অনেক কাজও শারীরিক অ্যাক্টিভিটির মধ্যে পড়ে, যেখানে শরীর ও মস্তিষ্ককে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। আর খেলার মাঠে এর সবচেয়ে ভাল উদাহরণ পাওয়া যায়। যেমন ধরুন, একজন ব্যাটারকে প্রতিনিয়ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
যেমন, বলটি কত গতিতে আসছে এবং কীভাবে ঘুরছে, এসব বুঝে ব্যাটারকে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঠিক করতে হয় কোন শট খেলবেন। অর্থাৎ খেলাধুলায় শারীরিক কাজের সঙ্গে মানসিক প্রক্রিয়াও একসঙ্গে চলে।
নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির সম্পর্কও রয়েছে। পাশাপাশি এটি শরীর ও মনের উপর চাপ বা স্ট্রেসের প্রভাব কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
ফিটনেস কি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে?
শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মস্তিষ্কের কাজ হল ‘Executive Decision-Making’। সহজ ভাষায়, এর অর্থ হল দ্রুত, শান্তভাবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিযোগিতার সময় অনেক সিদ্ধান্ত পলক ফেলার মধ্যেই নিতে হয়।
যেমন ধরুন, একজন ব্যাটারের কাছে একটি বল বিশ্লেষণ করার জন্য একদমই সময় থাকে না। বলটি আসার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ককে তথ্য বুঝতে হয়। শরীরকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। নিয়মিত শারীরিক অ্যাক্টিভিটি এই ধরনের মানসিক ও শারীরিক প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে।
চাপের সময়ে ফিটনেস কেন কাজে আসতে পারে?
ডা. গোয়েঙ্কার মতে, নিয়মিত শারীরিক অ্যাক্টিভিটিতে অভ্যস্ত মানুষের শরীর স্ট্রেসের সময়ে একটু আলাদাভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
তিনি জানান, যে ব্যক্তি নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তাঁদের চাপের পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হতে পারে। তাঁদের হৃদস্পন্দনের হারও শারীরিকভাবে থাকে কম।
অর্থাৎ, মন যখন চাপের মধ্যে থাকে, তখন শরীর কীভাবে সেই চাপের মোকাবিলা করবে, তার উপরও শারীরিক অ্যাক্টিভিটির প্রভাব থাকতে পারে। আর এগুলো থেকেই পরিষ্কার যে বিরাট ঠিক কীভাবে চাপের মুহূর্তে নিজের মাথা ঠান্ডা রাখেন।