সিরিজের রেজাল্টের চেয়েও অন্য কয়েকটি প্রশ্ন ভাবাচ্ছে ফ্যানদের। India vs New Zealand T20 Series: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-২-এ শেষ হয়েছে। শেষ ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়। কিন্তু সিরিজের রেজাল্টের চেয়েও অন্য কয়েকটি প্রশ্ন ভাবাচ্ছে ফ্যানদের। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কেন বার বার এত সমস্যা হল? নিউজিল্যান্ডের পেস-ফ্রেন্ডলি পিচে এবার কী প্ল্যান? বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মুখে এই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজতে হবে ভারতীয় শিবিরকে।
প্রথম সমস্যা, পেস বোলিং। দ্বিতীয়ত, হার্দিক পাণ্ড্যর মতো কার্যকর অলরাউন্ডারের বড়ই অভাব। তৃতীয়, মিডল অর্ডারে নতুন দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। তিনটি ক্ষেত্রেই ভারতকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
বোলিং
সিরিজের শেষ ম্যাচে অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমারকে খেলাতে হয়েছে ভারতকে। ৩৬ বছর বয়সে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, পেস বিভাগে পর্যাপ্ত বিকল্প কি রয়েছে ভারতের? ময়ঙ্ক যাদবের গতি আছে। তবে ধারাবাহিকতার অভাবও স্পষ্ট। হায়দরাবাদে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ৫২ রান দিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে আর খেলানো হয়নি।
অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও মেনে নিয়েছেন, দ্বিতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে বোলিং আরও ভাল হলে ফল অন্য রকম হতে পারত। অর্থাৎ, শুধু বড় রান করলেই হবে না। চাপের মুখে পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করাও জরুরি। নিউজিল্যান্ডে এই ঘাটতি আরও ভোগাতে পারে ভারতকে।
হার্দিকের বিকল্প কে?
হার্দিক পাণ্ড্যর মতো ব্যাট-বল হাতে কার্যকর ক্রিকেটার না থাকলে দলের ভারসাম্য নড়ে যায়। শিবম দুবে ও নীতীশ কুমার রেড্ডিকে সেই দায়িত্বে দেখা হচ্ছে। কিন্তু দু’জনেরই ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রেড্ডি হায়দরাবাদে ২০ বলে ৪১ রান করলেও তিন ওভারে ৩৯ রান দিয়েছিলেন। দুবের ব্যাটেও প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা নেই। শুধু কয়েকটি বড় শট নয়, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচের মোড় ঘোরানোই তাঁদের আসল পরীক্ষা।
ফিনিশারও চাই
শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার দায়িত্বও বড় চিন্তা। বেঙ্গালুরুতে মাত্র ছ’বলে অপরাজিত ২৪ রান করে নমন ধীর বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফিনিশারের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত। তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে তিনি অল্প সময়েই ম্যাচের গতি বাড়ান। এমন ঝলক নিয়মিত না হলেও, শেষ ওভারগুলিতে রান তোলার মানসিকতা জরুরি।
তিলক বর্মার ভূমিকাও বদলাচ্ছে। তিন নম্বরের বদলে পাঁচ বা ছ’নম্বরে নেমে ইনিংস শেষ করার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে তাঁকে। এই পরিবর্তন সহজ নয়। তবে দলের প্রয়োজনে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিলক।
নিউজিল্যান্ডে বাড়তি বাউন্স ও বলের মুভমেন্ট ভারতীয় ব্যাটারদের পরীক্ষা নেবে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের ২-২ ফলকে নিছক সমতা ভাবলে ভুল হবে। ভারতের হাতে রান করার ক্ষমতা রয়েছে। এখন প্রশ্ন, বোলিংয়ের ধার, অলরাউন্ডারদের অবদান এবং ফিনিশিং; এই তিন জায়গায় ভারতীয় টিম মনযোগ দেয় কিনা।