রঞ্জি ট্রফির গুরুত্ব কমাচ্ছে BCCI?ভারতীয় দলে খেলতে চাইলে রঞ্জি ট্রফিতে রান করুন, উইকেট নিন এবং নিজেকে প্রমাণ করুন। কয়েক বছর আগেও সিনিয়র ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ভারতীয় বোর্ড BCCI পর্যন্ত খেলোয়াড়দের এই বার্তাই দিত। কিন্তু এখন রঞ্জি ট্রফির ম্যাচের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ কি BCCI-এর এই কথার সঙ্গে কাজের মিল রয়েছে? রঞ্জি ট্রফির সূচি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
রঞ্জি ট্রফির সময় ভারত ‘এ’ দলের সফর, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি, এবং ঘরোয়া ম্যাচের সঙ্গে সূচির সংঘাতের ফলে, সকলেই প্রশ্ন করছেন, এটা আবার কেমন ব্যবস্থা? ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের ভিত্তি হিসেবে মনে করা রঞ্জি ট্রফিকে কি এবার উপেক্ষা করছেন বোর্ড?
আসলে এবার রঞ্জির ম্যাচের সঙ্গে একদম সংঘাত হচ্ছে ভারত ‘এ’ দলের ম্যাচের। এই ম্যাচ খেলতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তাদের ঘরোয়া টিমের জন্য থাকতে পারছেন না। প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার এবং দিলীপ বেঙ্গসরকার ঘরোয়া ক্রিকেট ব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রঞ্জির মাঝখানে ভারতীয় A দলের সফর কেন?
১১ অক্টোবর রঞ্জি ট্রফির নতুন মরশুম শুরু হয়েছে। একই দিনে ভারত ‘এ’ এবং অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের মধ্যে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটিও খেলা ছিল। ফলে, রজত পাটিদার, দেবদত্ত পাডিক্কাল এবং ঋতুরাজ গায়কোয়াডের মতো খেলোয়াড়রা নিজের স্টেট টিমের হয়ে খেলতে পারেন নি। পাটিদার মধ্যপ্রদেশের, পাডিক্কাল কর্ণাটকের এবং গায়কোয়াড মহারাষ্ট্রের টিমে খেলেন।
আবার ভারতীয় ‘এ’ দল ২৪ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে তিনটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে। এই সফরটিও রঞ্জির সূচির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এর অর্থ আবার কিছু তারকা খেলোয়াড় রঞ্জির ম্যাচ খেলতে পারবেন না।
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক দিলীপ বেঙ্গসরকার ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই আপত্তি তুলেছেন। তাঁর মতে, রঞ্জি ট্রফির মরসুমে ভারত ‘এ’ দলের সফর আয়োজন করলে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের গুরুত্ব কমে যায়। তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন, বিদেশি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যদি মূল দলকে আগে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তবে তা আরও আগেই পাঠানো যেতে পারে। যে খেলোয়াড়দের টেস্ট সিরিজে খেলার সম্ভাবনা কম, তাদের জন্য আলাদা সফর আয়োজন করার মানে কী?
রঞ্জি ট্রফিও গুরুত্বপূর্ণ কেন?
রঞ্জি ট্রফি হল সেইসব খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ, যারা লং ফরম্যাটে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে ভারতীয় দলে জায়গা করে নিতে চান। তবে, যখন রাজ্য দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা অনুপস্থিত থাকেন, তখন ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যায়। একটি শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের বিপক্ষে বোলিং করা এবং একটি দুর্বল লাইন-আপের বিপক্ষে উইকেট নেওয়া একই অভিজ্ঞতা নয়। একইভাবে, একটি শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করা একজন ব্যাটসম্যানের কৌশল এবং ধৈর্যের এক ভিন্ন পরীক্ষা।
বেঙ্গসরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, যদি ঘরোয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলেন, তবে তা অন্য রঞ্জি খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের থাকা না থাকা নিয়েই নয়, বরং তাদের পারফরম্যান্সের গুরুত্ব এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও জড়িত।
তবে রঞ্জি ট্রফি- আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি নয়
সুনীল গাভাস্কারও ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলছেন, রঞ্জি ট্রফিতে সবচেয়ে বেশি রান বা সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া কিছু খেলোয়াড় ভারতীয় দলে আসার পর সংগ্রাম করেন। কাউকে দ্রুত দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, আবার অন্যদের আরেকটি সুযোগের জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়।
ফলে এটা সত্যি যে রঞ্জি ট্রফিতে ভালো পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক সাফল্যের কোনও নিশ্চয়তা দেয় না। দুটিই ভিন্ন স্তর। কিন্তু প্রশ্ন হল, ঘরোয়া পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সময় সুযোগ, প্রতিপক্ষের মান এবং পরিস্থিতিকে কতটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়?
আদতে রঞ্জি ট্রফি শুধু রান করা আর উইকেট নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ফরম্যাটের কৌশল, ধৈর্য, চাপের মধ্যে ব্যাটিং এবং টানা বেশ কয়েকদিন ভালো ক্রিকেট খেলার অভ্যাস শেখায়। এই গুণগুলো টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এই টুর্নামেন্টের সময়সূচির সঙ্গে অন্য ম্যাচের সূচির সংঘাতের ফলেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।