Kali Puja 2026: কালী আসলে কে? দুর্গা, পার্বতী নাকি অন্য কেউ? ব্যাখ্যা পুরাণবিদের

সামনেই কালীপুজো। কোথাও দক্ষিণাকালী, কোথাও শ্যামাকালী, আবার কোথাও ভয়ংকরী চামুণ্ডা রূপে পূজিত হন দেবী। কিন্তু কালীর গায়ের রং কালো কেন? দেবী দুর্গা ও পার্বতীর সঙ্গে কালীর সম্পর্কই বা কী?

Advertisement
কালী আসলে কে? দুর্গা, পার্বতী নাকি অন্য কেউ? ব্যাখ্যা পুরাণবিদেরদেবী কালীর পরিচয় বুঝতে ফিরে যেতে হবে কালিকাপুরাণে।
হাইলাইটস
  • কালীর গায়ের রং কালো কেন?
  • দেবী দুর্গা ও পার্বতীর সঙ্গে কালীর সম্পর্কই বা কী?
  • পুরাণবিদ সুচেতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এল এই সব প্রশ্নের নানা দিক।

সামনেই কালীপুজো। কোথাও দক্ষিণাকালী, কোথাও শ্যামাকালী, আবার কোথাও ভয়ংকরী চামুণ্ডা রূপে পূজিত হন দেবী। কিন্তু কালীর গায়ের রং কালো কেন? দেবী দুর্গা ও পার্বতীর সঙ্গে কালীর সম্পর্কই বা কী? শিবের সঙ্গে দেবীর কথিত বিরোধের সঙ্গে দীপাবলির যোগ কোথায়? পুরাণবিদ সুচেতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এল এই সব প্রশ্নের নানা দিক।

কালো রং কি শুধুই ভয়ংকর রূপের প্রতীক?
দেবী কালীর পরিচয় বুঝতে ফিরে যেতে হবে কালিকাপুরাণে। এই পুরাণের সঙ্গে বাংলার পাশাপাশি অসমের ধর্মীয় পরিসরেরও যোগ রয়েছে। কামাখ্যা উপাসনা এবং শক্তির আরাধনার বিভিন্ন দিকও এই পুরাণে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে দুর্গাপুজোর উল্লেখ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে দেবীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা।

সাধারণত আমরা পার্বতীকে গৌরবর্ণা দেবী হিসাবেই কল্পনা করি। কিন্তু পুরাণের আখ্যান অন্য কথা বলে। পার্বতী আদিতে কৃষ্ণবর্ণা ছিলেন। শিব স্নেহের সঙ্গে তাঁকে 'কালী' বলে সম্বোধন করেছিলেন। এই সম্বোধনের মধ্যেই দেবীর নামের একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। পরে গৌরবর্ণা হওয়ার ইচ্ছা এবং সেই উদ্দেশ্যে দেবীর তপস্যার কাহিনিও পুরাণে রয়েছে।  

অর্থাৎ, কালী ও গৌরীকে সম্পূর্ণ আলাদা দুই দেবী হিসাবে দেখার বদলে একই শক্তির দুই রূপ হিসাবেও ব্যাখ্যা করা যায়। একদিকে কৃষ্ণবর্ণা কালী, অন্য দিকে উজ্জ্বল গৌরী। দেবীর রূপ বদলালেও শক্তির মূল পরিচয় বদলায় না।

কালরাত্রি, ভদ্রকালী ও দেবীর ভয়ংকরী রূপ
নবরাত্রিতে পূজিত দেবীর নয়টি রূপের মধ্যে অন্যতম কালরাত্রি। এই রূপের বর্ণনা বেশ ভয়ংকর। দেবীর গায়ের রং ঘন অন্ধকারের মতো। চুল উন্মুক্ত, চোখ উজ্জ্বল এবং জিহ্বা বাইরে বেরিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের মনে এই রূপ ভয় তৈরি করতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এই ভয়ংকরী রূপের উদ্দেশ্য অশুভ শক্তির বিনাশ।

অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর মন্ত্রে দেবীকে ভদ্রকালী নামেও স্মরণ করা হয়। অর্থাৎ, যাঁর রূপ ভয়ংকর, তিনিই ভক্তের কাছে মঙ্গলদায়িনী। এই দ্বৈত পরিচয় কালীর আরাধনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অন্ধকার এখানে শুধু ভয় বা অশুভের প্রতীক নয়। অন্ধকারের গভীর থেকেই আলোর প্রকাশ ঘটে। দেবীর কৃষ্ণবর্ণ রূপের মধ্যেও সেই দর্শন খুঁজে পান অনেকে।

Advertisement

শিব-পার্বতীর বিরোধ থেকেই কি দীপাবলির শুরু?
কালীপুজোর সঙ্গে দীপাবলির সম্পর্ক নিয়েও এক মজার তথ্য দিলেন সুচেতা। তুলে ধরলেন শিব ও পার্বতীর বিরোধের একটি আখ্যান। কথিত, এক সময়ে শিব ও পার্বতীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। অভিমানে শিব অদৃশ্য হয়ে যান। তাঁর তিন নেত্রের আলোও হারিয়ে যায়। চারদিকে নেমে আসে অন্ধকার।

সেই পরিস্থিতিতে বিষ্ণু নিজের অন্তরের মাধ্যমে প্রদীপ জ্বালানোর পরামর্শ দেন। এর দার্শনিক ব্যাখ্যাও হয়। শুধু বাইরের অন্ধকার দূর করাই নয়, মানুষের নিজের অন্তরের জ্ঞান ও চেতনাকে জাগিয়ে তোলার মাধ্যমেই চারিত্রিক বিকাশ ঘটে। দীপাবলিতে সেই প্রদীপ জ্বালানোর পিছনেও আদতে এই ভাবনা।

এই কাহিনির প্রতীকী অর্থও বেশ গভীর। শিবকে এখানে সংযম, শান্তি ও প্রশান্তির প্রতীক হিসাবে দেখা যায়। অন্য দিকে, পার্বতী তথা কালী হলেন শক্তির প্রকাশ। দু'টি ভাবনা একে অপরের পরিপূরক। শক্তি ছাড়া সৃষ্টি অসম্পূর্ণ, আবার সংযম ছাড়া শক্তির প্রকাশও ভারসাম্য হারাতে পারে।

বাংলার কালীপুজোর দর্শন কোথায় আলাদা?
বাংলায় কালী শুধু পুরাণের কোনও দূরবর্তী দেবী নন। তিনি ঘরের মেয়ে, সংসারের রক্ষাকর্ত্রী, বিপদের সময় ভরসার প্রতীক। তাই এখানে দেবীর ভয়ংকরী রূপের পাশাপাশি মাতৃরূপও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শ্মশানকালী থেকে দক্ষিণাকালী, শ্যামাকালী থেকে রক্ষাকালী; বিভিন্ন রূপে দেবীকে আপন করে নিয়েছেন বাংলার মানুষ।

কালীপুজোর রাতে যখন প্রদীপ জ্বলে, তখন তার অর্থ শুধু উৎসবের আলো নয়। পুরাণের ব্যাখ্যায় সেই আলো অজ্ঞানতা দূর করে জ্ঞান অর্জনের প্রতীকও। তাই কৃষ্ণবর্ণা দেবীর আরাধনার মধ্যেও রয়েছে আলোর সন্ধান। ভয়ংকরী রূপের আড়ালে রয়েছে মাতৃত্ব, শক্তি এবং মঙ্গলের বার্তা। 

POST A COMMENT
Advertisement