স্বদেশ রায়, সিনিয়র সাংবাদিকঢাকার মধ্যবিত্ত আবাসিক এলাকাগুলির অন্যতম নিউ ইস্কাটন রোড। সকালে এই রাস্তা ধরে অনেকেই শহরের অন্যতম বড় পার্ক রমনায় হাঁটতে যান। ফেরার পথে তাঁদের হাতে দেখা যায় সবজির থলি। রাস্তার ধারে সাইকেল ভ্যানে করে যে সবজি বিক্রি হয়, সেখান থেকেই তাঁরা কেনেন। আশপাশের বাসিন্দারাও এই ভ্যানগুলির সামনে ভিড় করেন। ঢাকার বড় পাইকারি সবজির বাজার কারওয়ান বাজার এখান থেকে মাত্র আধ কিলোমিটার দূরে। ফলে এই বিক্রেতারা খুব সহজেই পাইকারি বাজার থেকে টাটকা সবজি নিয়ে আসতে পারেন। পরিবহণ খরচও কম হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে সবজি বিক্রি করা সম্ভব হয়।
আগে যেখানে চার কেজি পটল আনতেন, এখন আনেন মাত্র দুই কেজি
কিন্তু এখন ওই ভ্যানগুলিতে যে পরিমাণ সবজি দেখা যায়, তা ২০২৪ সালের জুন মাসের তুলনায় তা প্রায় অর্ধেক। ষাটের কোঠা পেরোনো এক সবজি বিক্রেতাকে জিগ্গেস করেছিলাম, তিনি কেন আগের তুলনায় কম সবজি আনছেন। তাঁর উত্তর, 'সবজির দাম বেড়েছে, কিন্তু তাঁর ব্যবসার মূলধন বাড়েনি। আগে যেখানে চার কেজি পটল আনতেন, এখন আনেন মাত্র দুই কেজি। শুধু তাই নয়, তাঁর ব্যবসার মূলধনেরও একটা অংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে।'
কেন মূলধন কমে গেল, জানতে চাইতেই তিনি বিস্মিত হয়ে কিছুটা বিরক্তির সুরে বললেন, “আপনি কি এই দেশে থাকেন না? কেন আমার ব্যবসা চালানোর টাকা কমে গিয়েছে, সেটাও বুঝতে পারছেন না?” তাঁর কথার উত্তরে আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললাম, “দেখুন, সবজির দাম বেড়েছে। আপনিও তো বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে আপনার লাভ তো একই থাকার কথা। তা হলে ব্যবসার টাকা কমে যাবে কেন?”
এ বার তিনি আরও বিরক্ত হয়ে বললেন, “ভাই, আমি কি সারাদিন শুধু সবজি বিক্রি করি? আমার সংসার নেই? মাংস বাদ দিলাম, সপ্তাহে অন্তত এক দিন মাছ বা ডিম কিনতে হয়। ডাল না খেলেও চাল, আটা, সয়াবিন তেল বা পাম তেল তো কিনতেই হবে। রান্নার জন্য সিলিন্ডারের গ্যাসও লাগে। এসব জিনিসের দাম কী হয়েছে, দেখেছেন?”
ততক্ষণে তিনি বেশ বিরক্ত। তবু আমি আবার জানতে চাইলাম, “কিন্তু জিনিসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার লাভ কি বাড়ছে, না কমছে?” আমার প্রশ্নে বিরক্ত হলেও তিনি বললেন, “দেখুন, যখন শাকসবজির দাম কম থাকে, তখন মানুষ এক কেজির বদলে দেড় কেজি কেনে। একটু বেশি খায়। কিন্তু দাম বাড়লে কেউ এক কেজির বদলে ৫০০ গ্রাম কেনে, কেউ আবার ৪০০ গ্রাম। বলুন তো, বেশি বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়, না কম বিক্রি করলে?”
এর পর আর তাঁকে বিরক্ত করিনি।
সয়াবিন তেল, পাম তেল ও কেরোসিনের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি
আমাদের ওই ভোরের কথোপকথনের আগের দিন বিকেলেই সরকার ১২ কেজির LPG সিলিন্ডারের দাম ১,৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৮৩৭ টাকা করেছিল। অথচ তার এক দিন আগেই বাংলাদেশের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, সরকারি দাম ১,৫৮৫ টাকা হলেও বাজারে ওই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,৪৫০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। এগুলি ছিল রাজধানীর দাম। গ্রামাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে ২,৫০০ টাকার সঙ্গে আরও ৫০ থেকে ৬০ টাকা যোগ হচ্ছে। এখন সরকারি দামই যখন ১,৮৩৭ টাকা, তখন ঢাকার বাজারে এর দাম যে ৩ হাজার টাকার গণ্ডি পেরোবে, তা বলাই যায়। গ্রামাঞ্চলে এর সঙ্গে আরও ৫০ থেকে ৬০ টাকা যোগ হবে। কারণ ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলে সয়াবিন তেল, পাম তেল ও কেরোসিনের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি।
বাস্তবে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পণ্যসামগ্রীর সামগ্রিক মূল্যস্তর বেড়েছে ১৫ শতাংশ। অথচ ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সরকারি হিসাবের মধ্যে এক ধরনের পরিসংখ্যানগত কারসাজি রয়েছে। ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্তর বেড়েছে ৭ থেকে ৮ শতাংশ। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিও কমে ৮ শতাংশের কিছু বেশি হয়েছে। কিন্তু এই ৮ শতাংশ যোগ হয়েছে ২০২৫ সালে খাদ্যপণ্যের দামের ২০ শতাংশ বৃদ্ধির পর। অর্থাৎ প্রকৃত হিসাব করলে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের মূল্যস্তর বেড়েছে ২৮ শতাংশ।
অত্যাবশ্যকীয় কিছু পণ্যের আমদানিও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে
সামগ্রিক মূল্যস্তর বৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশে আটকে থাকার অন্যতম বড় কারণ হল মানুষ অনেক পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছে। একই সময়ে বিলাসপণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ অত্যাবশ্যকীয় কিছু পণ্যের আমদানিও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে বিক্রেতাদের তথাকথিত ‘লাগেজ ট্রেডার’-দের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ভারত, থাইল্যান্ডের মতো দেশ থেকে যাঁরা নিজেদের লাগেজে করে পণ্য নিয়ে আসেন, তাঁরাই এখন অনেকটা সেই চাহিদা মেটাচ্ছেন। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা এই ধরনের ইউরোপীয় ও মার্কিন পণ্যে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন তাঁরা হয় এই পণ্য কিনছেন না, অথবা আগের তুলনায় অনেক কম কিনছেন।
মানুষের কেনাকাটা কমে যাওয়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ৪৫৭টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানেন, ওই ৪৫৭টি কারখানার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বা সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করা আরও অন্তত কয়েক হাজার কারখানা রয়েছে। এমনকি একটি মাঝারি মানের বিস্কুট ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেও ১০ থেকে ১৫টি কারখানা সাব-কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে বিস্কুট তৈরি করে।
ফলে গত দুই বছরে বাংলাদেশে প্রকৃত বেকার মানুষের সংখ্যা যে ওই ৪৫৭টি কারখানায় চাকরি হারানো মানুষের সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি, তা বলাই বাহুল্য।
শ্রমবাজারের আরও একটি দিক রয়েছে। কোনও সাধারণ শ্রমিক চাকরি হারালে পরের দিনই দিনমজুরি বা রিকশা চালানোর মতো কাজে নেমে পড়তে পারেন। আয় যত সামান্যই হোক, কিছু একটা রোজগার করতে পারেন।
কিন্তু কোনও কর্পোরেট সংস্থার এগজিকউটিভ চাকরি হারালে তাঁর সামনে তৎক্ষণাৎ আয় করার এমন কোনও বিকল্প থাকে না। তাঁকে প্রথমেই সংসারের খরচ কমাতে হয়। একই সঙ্গে নতুন কিছু খরচও যোগ হয়। যেমন কোম্পানির গাড়ি চলে যাওয়ায় তাঁকে Uber ব্যবহার করতে হয়। সন্তানদের যাতায়াতের জন্যও Uber-এর খরচ বহন করতে হয়। এমনকি মোবাইল ফোনের বিলও তখন নিজের পকেট থেকেই দিতে হয়।
‘নীরব দুর্ভিক্ষ’-এর লক্ষণ
একদিকে আয় নেই, অন্যদিকে বাড়তে থাকে নতুন খরচ। ফলে এই মানুষগুলি পোশাক বা বিভিন্ন বিলাসপণ্য প্রয়োজন ছাড়া আর কিনতে পারেন না। এর ফলে সমাজের এই বড় অংশে যেমন পণ্যের চাহিদা কমছে, তেমনই ক্রেতার সংখ্যাও কমছে। আর সেটাই সামগ্রিক মূল্যস্তরকে নীচে রাখছে।
অর্থাৎ, যখন দেশের একটি বড় অংশ খাদ্য থেকে পোশাক এবং অন্যান্য পণ্য, সবকিছুর কেনাকাটা কমিয়ে দেয়, তখন সেটিকে এক ধরনের ‘নীরব দুর্ভিক্ষ’-এর লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। হয়তো এখনও খাদ্যের অভাবে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে না, কিন্তু তীব্র বঞ্চনা তৈরি হচ্ছে। অনেকের শরীর নীরবে শুকিয়ে যাচ্ছে।
এর একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। ২০২৪ সালের জুনে ঢাকার গুলশান ও বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় দিনমজুর, রিকশাচালক, গাড়িচালক এবং চতুর্থ শ্রেণির সরকারি-বেসরকারি কর্মীদের রাস্তার ধারের খাবারের দোকান থেকে দিনে দু’বেলা খাবারের মাসিক খরচ ছিল প্রায় ৩,০০০ টাকা। এখন সেই খরচ বেড়ে হয়েছে ৬,০০০ টাকা। অথচ মাছ, মাংস ও ডিমের পরিমাণ কমেছে।
একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর মাসিক আয় ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা। নিজের খাবারের পিছনেই যদি ৬,০০০ টাকা চলে যায়, তা হলে পরিবারের জন্য তিনি কী নিয়ে যাবেন? এই কারণেই কেউ কেউ দিনে মাত্র এক বার খাচ্ছেন। আবার কেউ ভাত, মাছ বা মাংসের বদলে কলা, বিস্কুট ও চা খেয়ে ক্ষুধা সামলাচ্ছেন।
এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শেখ হাসিনার সরকারের সময় চুক্তিবদ্ধ IMF-এর বাজেট সহায়তার একটিও কিস্তি পায়নি। কারণ বর্তমান সরকারের জন্য IMF-এর দেওয়া শর্তগুলি অনেক কঠিন। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি বন্ধ করা, রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কার এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
জ্বালানির দাম বাড়লে সবকিছুর দামই বাড়ে
রিজার্ভ বাড়াতে সরকার একদিকে বাজার থেকে ডলার কিনছে, অন্যদিকে কারখানার যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য কার্যত ডলার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। জ্বালানি ক্ষেত্রেও সরকার কোনও ভর্তুকি দিচ্ছে না। সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার কর কমিয়ে বা কখনও কর পুরোপুরি তুলে দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে সবকিছুর দামই বাড়ে। এর ফলে সরকারের পরোক্ষ কর আদায় বাড়লেও সাধারণ মানুষের পকেট খালি হয়ে যায়।
তা সত্ত্বেও ২৯ অক্টোবর IMF-এর সঙ্গে বৈঠকের আগে এই সরকার মাত্র সাত মাসের মধ্যে তিন বার জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি রেকর্ড। এদিকে জ্বালানির অভাবে সার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ডলার-সংকটের কারণে পর্যাপ্ত সার আমদানি না হওয়ায় ইতিমধ্যে দুটি জেলায় কয়েকটি সার গুদাম লুট হয়েছে। মানুষ সার পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। এ বার আসা যাক ব্যাঙ্কিং সংস্কারের কথায়। ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লক্ষ কোটি টাকারও কম। এখন তা বেড়ে ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।
দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা রয়েছে, তা বোঝার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি ঘোষণাই যথেষ্ট। তিনি বলেছেন, কেউ কোনও আওয়ামী লীগ সদস্যকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটের হার অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ সেই দলকে সমর্থন করেন। সেটিই ছিল বাংলাদেশের শেষ সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচন। এর পরেও সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টা সম্পর্কে কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
একই সঙ্গে ডলার সাশ্রয় এবং তার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে গিয়ে যন্ত্রপাতি আমদানি কমানো বা বন্ধ করা এবং বাজার থেকে ডলার কেনার যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, তার জন্যও বাংলাদেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে। একদিকে হাজার হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমন সময়ে নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অবাধে আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে দেশীয় উৎপাদন ও রফতানিতে ধাক্কা আসতে পারে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।
আর কোনও এক সময় ডলারকে বাজারদরে লেনদেনের অনুমতি দিতেই হবে। তখন এর দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৩ সালের দিকে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি এক বার দেখা গিয়েছিল। ডলারের দাম এক লাফে ৮০ টাকা থেকে প্রায় ১০০ টাকায় উঠে গিয়েছিল। বর্তমানে তা প্রায় ১২২ টাকা। যদি আরও ২০ টাকা বেড়ে যায়, তা হলে ডলারের দাম দাঁড়াবে ১৪২ টাকা। এমন দুর্বল অর্থনীতিতে এক ডলারের দাম ১৪২ টাকা হলে বাজারে তার প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
আর সেই ধাক্কা অনুভূত হবে সর্বত্র, সাইকেলভ্যানে করে সবজি বিক্রি করা সেই বিক্রেতার জীবন থেকে শুরু করে বড় কর্পোরেট সংস্থা এবং দেশের আমদানি-রফতানির পণ্য বহনকারী জাহাজ পর্যন্ত।